দোকানে গিয়ে কেনাকাটায় বাড়ছে আগ্রহ

সংগৃহীত ছবি
নতুন বছর শুরু হতে না হতেই একের পর এক দোকান বন্ধের খবরে সবার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। ফ্রান্সেসকার মতো বড় ব্র্যান্ডের ৪০০ দোকানসহ ওয়ালগ্রিনস আর মেসিস এর মতো নামি সব শোরুমে তালা ঝুলছে। এমনকি বড় ধনকুবেরদের পছন্দের আমেরিকান লাক্সারি দোকান ‘সাকস ফিফথ অ্যাভিনিউ’ পর্যন্ত দেউলিয়া হওয়ার আবেদন করেছে। এসব দেখে অনেকেই ভাবছিলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে যুক্তরাষ্ট্রের রিটেইল বাজার বোধহয় ধসে পড়ছে।
সবাই যখন ভাবছে বাজার শেষ, তখন আসল হিসাব দেখাচ্ছে অন্য জাদু। গত নভেম্বর পর্যন্ত হিসাব করলে দেখা যায়, গাড়ি আর গ্যাস বাদ দিয়ে সাধারণ কেনাকাটা আগের চেয়ে ৪.২ শতাংশ বেড়েছে। অনলাইনে কেনাকাটা বাড়লেও সেটির গতি আগের চেয়ে বেশ কমেছে। অর্থাৎ মানুষ এখন মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিন ছেড়ে আবার সশরীরে শোরুমে গিয়ে জিনিস দেখে কিনতে বেশি পছন্দ করছেন।
দোকান বন্ধের খবরগুলো শিরোনামে জায়গা পেলেও আসল খবর হলো, ২০২৬ সালে খুচরা বিক্রেতারা নতুন উদ্যমে মাঠে নেমেছেন। এক রিপোর্টে দেখা গেছে, এ বছর ৭৩৩টি দোকান বন্ধের বিপরীতে ১,২০১টি নতুন শোরুম খোলার ঘোষণা এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাঝখানে ব্যবসা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়লেও এখন আবার জোয়ার আসতে শুরু করেছে।
বাজারে জিনিসের দাম বেশি হওয়ায় মানুষ এখন একটু সাশ্রয়ী দোকান খুঁজছেন। আর এই সুযোগেই ‘ডলার জেনারেল’ বা ‘অ্যালডি’ এর মতো সস্তা দোকানগুলো শত শত নতুন শোরুম খোলার পরিকল্পনা করেছে। পকেটে টান থাকায় মানুষ এখন যেখানে কম দামে ভালো জিনিস পাওয়া যায়, সেখানেই লাইন দিচ্ছে। ইউনিক্লো বা বার্লিংটনের মতো ব্র্যান্ডগুলোও এই সুযোগে নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়ে নিচ্ছে।
শুধু সস্তা জিনিস নয়, দামি আসবাবপত্র বা প্রসাধনীর দোকানগুলোও ডালপালা মেলছে। এমনকি দামি বিছানা আর বালিশের ব্র্যান্ডগুলোও নতুন নতুন শোরুম খুলছে। আসবাবপত্রের বাজারে গত কয়েক বছরের মন্দা কাটিয়ে এখন আবার লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি অতি দামি ব্র্যান্ড ‘এরমেস’ও খুলছে তাদের নতুন নতুন শাখা।
সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো আজকের জেনারেশন জেড বা তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে। যারা সারাদিন ইন্টারনেটে পড়ে থাকে, তারাও এখন বলছে যে অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার চেয়ে দোকানে গিয়ে নিজে হাতে ধরে জিনিস দেখে কেনাকাটা করতেই তারা বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। তরুণদের এই নতুন শখই মূলত শোরুমের ব্যবসাকে আবার বাঁচিয়ে তুলছে।
মানুষের কেনাকাটার ধরন এখন অনেক আধুনিক হয়েছে। একদিন হয়তো কেউ শখের বশে শপিংমলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আবার অন্যদিন হয়তো অনলাইনে অর্ডার দিয়ে ফেরার পথে দোকান থেকে পণ্যটি নিয়ে আসছেন। আবার অনলাইনে কেনা জিনিস পছন্দ না হলে কুরিয়ার করার ঝামেলা না নিয়ে মানুষ সরাসরি দোকানে গিয়ে সেটা ফেরত দিয়ে আসছে। অর্থাৎ অনলাইন আর অফলাইন দুটিই এখন মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।
অনলাইনজগতের রাজা অ্যামাজনও এখন বুঝতে পারছে যে শুধু ইন্টারনেটে বসে ব্যবসা হবে না। তারাও এখন শিকাগোর পাশে বিশাল বড় এক ফিজিক্যাল স্টোর বা শোরুম খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অনলাইনে জন্ম নেওয়া অনেক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডও এখন বড় বড় রাস্তা বা শপিংমলে নিজেদের দোকান সাজাচ্ছে। এর মাধ্যমেই প্রমাণ হচ্ছে যে ইন্টারনেটের দাপট থাকলেও শেষ পর্যন্ত শোরুমের আবেদন কোনোদিন কমবে না।






