সাইবেরিয়ায় প্লেগ-আতঙ্ক, রাশিয়াকে সহায়তার প্রস্তাব ট্রাম্পের
- গবেষণাকেন্দ্রের কর্মীর মৃত্যু ঘিরে সতর্কতা
- পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ওয়াশিংটন

সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে কর্মরত এক নারীর মৃত্যুতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে মস্কোকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সাইবেরিয়ার প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে কর্মরত এক নারীর মৃত্যুতে সতর্কতা জারি করেছে রাশিয়া। ঘটনাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও তথ্য সংগ্রহ করছে।
মৃত্যুর পর ওই গবেষণাকেন্দ্রের কয়েকজন কর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে রুশ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছে। ইরকুটস্ক অঞ্চলের কিছু চিকিৎসাকেন্দ্রেও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানা গেছে। তবে এসব ব্যবস্থার অর্থ ওই ব্যক্তিরা প্লেগে আক্রান্ত—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো নেই।
ঘটনাটি নিয়ে রাশিয়ার কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রয়োজনে মস্কোকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে রাশিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত দাবি করা হয়নি।
মৃত নারী ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্লেগসহ সংক্রামক রোগ নিয়ে গবেষণা করে।
রুশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ওই নারী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। তার মৃত্যুর সঙ্গে প্লেগের জীবাণুর কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ফলে ঘটনাটিকে প্লেগের নিশ্চিত সংক্রমণ বা প্রাদুর্ভাব হিসেবে চিহ্নিত করার মতো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটিকে ঘিরে নানা দাবি ছড়িয়েছে। তবে এসব দাবির সবগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ওয়াশিংটন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে—এমন কোনো মার্কিন সতর্কতা জারি হয়নি।
প্লেগ নিয়ে সতর্কতার কারণ রয়েছে। এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ এবং এর কিছু ধরন দ্রুত গুরুতর হতে পারে। তবে দ্রুত শনাক্ত হলে অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব।
বিশেষ করে নিউমোনিক প্লেগ শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটাতে পারে এবং ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়াতে পারে। তাই সম্ভাব্য সংক্রমণের ক্ষেত্রে সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তিদের পর্যবেক্ষণে রাখা একটি স্বাভাবিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হতে পারে।
তবে সাইবেরিয়ার এই ঘটনায় প্লেগের সংক্রমণ ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পরীক্ষার ফলের অপেক্ষা করতে হবে।
ঘটনাটি রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দিক থেকেও নজর কেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্যে থাকলেও সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রাশিয়াকে সহযোগিতার কথা বলেছেন ট্রাম্প।
এখন মূল নজর মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণের বিষয়ে পরবর্তী পরীক্ষার ফলের দিকে।
নতুন কোনো সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে কি না, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়েছেন কি না—এসব তথ্য পরিস্থিতির প্রকৃত ঝুঁকি বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, একজন গবেষণাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং তার কর্মস্থলকে ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ওই মৃত্যুর কারণ প্লেগ এবং সেখানে প্লেগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে—দুটিই এখনো নিশ্চিত নয়।



