সীমান্ত প্রাচীরের পথে ২০০ বছরের গাছ
- ডালে মাচা বেঁধে বিক্ষোভকারীদের অবস্থান

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো একটি কটনউড গাছ কাটা ঠেকাতে গাছের ডালে মাচা বেঁধে দিনরাত অবস্থান করছেন সেখানকার পরিবেশকর্মীরা। অ্যারিজোনার লকিয়েল এলাকায় সীমান্ত প্রাচীর সম্প্রসারণ প্রকল্প ঘিরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন জাতীয় আলোচনার অন্যতম বিষয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, শেষ অবশিষ্ট প্রাচীন এই গাছটি শুধুমাত্র একটি বৃক্ষই নয়। সীমান্ত অঞ্চলের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যেরও প্রতীক।
২৭ জুলাই সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি সংস্থা ফিশার স্যান্ড অ্যান্ড গ্র্যাভেল খননযন্ত্র দিয়ে একই এলাকার তিনটি বিশাল কটনউড গাছ কেটে ফেলে। সেই ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা প্রতিবাদ শুরু করে। গত সপ্তাহে আন্দোলন আরও জোরালো রূপ নেয়। এখন একজন করে আন্দোলনকারী গাছের ডালে তৈরি মাচায় সারাক্ষণ অবস্থান করছেন। নিচে ব্যক্তিগত জমিতে ক্যাম্প করেছেন আরও কয়েক ডজন পরিবেশপ্রেমী।
আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক কেট স্কটের কথায়, 'এই গাছই আমাদের স্ট্যাচু অব লিবার্টি।' আর সিয়েরা ক্লাবের কর্মী এরিক মেজার দাবি, সীমান্তে যা ঘটছে, তা কেবল একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়। তা পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ধ্বংসের প্রতীক। আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, দ্বিতীয় দফার সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণের জন্য গাছটি সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অথচ এই এলাকা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর মধ্যে বন্যপ্রাণীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের করিডর। ভালুক, সজারু সহ নানা প্রাণীর বাস এই উপত্যকায়। কটনউড গাছ মরু অঞ্চলের জলাভূমি ও নদীসংলগ্ন বাস্তুতন্ত্র টিকিয়ে রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার এখন খুবই কম সংখ্যায়। তবু নতুন করে দ্বিস্তর প্রাচীর নির্মাণের সিদ্ধান্তে অযথা ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। সম্প্রতি ওই গাছে বিপন্ন প্রজাতির ওয়েস্টার্ন ইয়েলো- বিল্ড কুকু পাখির উপস্থিতিও দেখা গেছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল আইডি অ্যাক্ট- এর বিশেষ বিধানের কারণে সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণে বহু পরিবেশ আইন শিথিল করার সুযোগ রয়েছে। ফলে বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণ আইনসহ একাধিক বিধিনিষেধ এই প্রকল্পে আর কার্যকর হচ্ছে না।
যদিও আন্দোলনকারীরা পিছু হটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। তাদের ঘোষণা, শেষ প্রাচীন কটনউড গাছটি রক্ষা না হওয়া পর্যন্ত গাছের ডালেই চলবে তাদের অবস্থান বিক্ষোভ। সীমান্তের সেই নিরব বৃক্ষই এখন যুক্তরাষ্ট্রে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সীমান্ত নীতির সংঘাতের এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে।
ভাষান্তর : রুবাইয়া জেসমিন







