যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় ধাক্কা
- সেপ্টেম্বরে চাকরি বাড়ল মাত্র ২৯ হাজার, বেকার ৭১ লাখ

যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে সেপ্টেম্বরে বড় ধাক্কা দেখা গেছে। এক মাসে নতুন চাকরি যোগ হয়েছে মাত্র ২৯ হাজার। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক।
একই সময়ে বেকারত্বের হার বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। ফলে দেশটিতে বেকারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭১ লাখে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ওয়াশিংটন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) তাদের মাসিক ‘দ্য এমপ্লয়মেন্ট সিচুয়েশন’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানেই সেপ্টেম্বরের কর্মসংস্থান ও বেকারত্বের সর্বশেষ হিসাব তুলে ধরা হয়।
এক মাসেই বেকারত্ব বাড়ল
আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা ০ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে।
শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হারও সামান্য বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে এ হার দাঁড়িয়েছে ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ। চাকরির বাজারের দুর্বলতার চিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে আগের দুই মাসের হিসাব সংশোধনের পর।
জুলাইয়ে আগে ২১ হাজার চাকরি বাড়ার কথা বলা হয়েছিল। সংশোধিত হিসাবে দেখা গেছে, ওই মাসে বরং ১০ হাজার চাকরি কমেছে।
আগস্টের চাকরি বৃদ্ধির হিসাবও ১ লাখ ৬২ হাজার থেকে কমিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার করা হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে আগের হিসাবের তুলনায় মোট ৬০ হাজার কম চাকরি তৈরি হয়েছে।
কোথায় চাকরি বাড়ল, কোথায় কমল
সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ১৭ হাজার নতুন চাকরি যোগ হয়েছে। নির্মাণ খাতে বেড়েছে ১১ হাজার। উৎপাদন খাতে নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে ৯ হাজার।
তবে কয়েকটি খাতে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে।
তথ্য খাতে চাকরি কমেছে ১০ হাজার। আর্থিক কর্মকাণ্ডের খাতে কমেছে ৭ হাজার। সরকারি খাতেও কর্মসংস্থান কমেছে।
মজুরি বৃদ্ধিও সীমিত
সেপ্টেম্বরে কর্মীদের গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে মাত্র ৫ সেন্ট। শতাংশের হিসাবে এই বৃদ্ধি ০ দশমিক ১ শতাংশ
গত এক বছরে ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বেড়েছে ৩ শতাংশ।
চাকরি সৃষ্টির গতি কমে যাওয়া এবং আগের মাসগুলোর কর্মসংস্থানের হিসাব নিচে নামিয়ে সংশোধনের ফলে মার্কিন শ্রমবাজারের সাম্প্রতিক চিত্র আগের ধারণার তুলনায় দুর্বল হয়েছে।
শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির গতিপথ বিবেচনায় ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে।
তবে সেপ্টেম্বরের চাকরির প্রতিবেদন একাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে না। মূল্যস্ফীতি, মজুরি, ভোক্তা ব্যয় ও অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকের তথ্যও নীতিনির্ধারণে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র : যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো



