আমেরিকাজুড়ে করোনার নতুন প্রবাহ, ৫০ অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ বৃদ্ধির শঙ্কা

গ্রীষ্মের শেষভাগে দেশজুড়ে ভাইরাসটির বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও বাড়ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। গ্রীষ্মের শেষভাগে দেশজুড়ে ভাইরাসটির বিস্তার নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ বাড়ছে অথবা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে কয়েক মাসের তুলনামূলক স্বস্তির পর যুক্তরাষ্ট্রে করোনার নতুন প্রবাহের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের পরিস্থিতি ২০২০ সালের মতো ভয়াবহ নয়। তবে দেশজুড়ে একই সময়ে সংক্রমণ বাড়ার প্রবণতা উপেক্ষা করার মতো নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা মানুষের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
গ্রীষ্মেই কেন বাড়ছে করোনা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ব্যাপক ভ্রমণ, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং ঘরের ভেতরে বেশি সময় কাটানোসহ বিভিন্ন কারণে গ্রীষ্মকালেও করোনার সংক্রমণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সময়ের সঙ্গে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াও সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হতে পারে।
করোনাভাইরাস এখন অনেকটাই মৌসুমি শ্বাসতন্ত্রের রোগের মতো আচরণ করছে। ফলে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সংক্রমণ বাড়া এবং পরে কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বর্জ্য পানিতেও মিলছে সতর্ক সংকেত
করোনার বিস্তার বোঝার জন্য বর্জ্য পানির নমুনা পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ অনেক মানুষ উপসর্গহীন অবস্থায়ও ভাইরাস বহন করতে পারেন। ফলে হাসপাতালে রোগী বা পরীক্ষার সংখ্যা দিয়ে পুরো সংক্রমণ পরিস্থিতি বোঝা সবসময় সম্ভব হয় না।
সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য পানিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি বাড়ার সংকেত পাওয়া গেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, বাস্তবে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যার চেয়েও সংক্রমণ আরও বেশি হতে পারে।
নতুন ধরন নিয়ে উদ্বেগ কতটা?
করোনাভাইরাসের বিভিন্ন নতুন উপধরন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই যে বর্তমান কোনো ধরন আগের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি প্রাণঘাতী।
তবে সংক্রমণ যত বাড়বে, তত বেশি মানুষের মধ্যে ভাইরাস ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। আর সেই কারণেই নতুন কোনো ধরন ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে কি না, তা নজরে রাখছেন বিশেষজ্ঞরা।
লকডাউনের আশঙ্কা নেই
বর্তমান পরিস্থিতিকে ২০২০ সালের সঙ্গে তুলনা করছেন না স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। টিকা, আগের সংক্রমণ থেকে তৈরি প্রতিরোধক্ষমতা এবং চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির কারণে এখন গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক কম।
তাই দেশজুড়ে নতুন করে লকডাউন বা আগের মতো কঠোর বিধিনিষেধ ফিরে আসার কোনো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।
তবে জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ, শ্বাসকষ্ট কিংবা শরীর খারাপের মতো উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আবারও জনস্বাস্থ্যের আলোচনায় ফিরছে। কয়েক মাসের তুলনামূলক স্বস্তির পর দেশের ৫০ অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণ বৃদ্ধির সংকেত নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—করোনা কি আবারও বড় প্রবাহের পথে?
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আতঙ্ক নয়; প্রয়োজন সতর্কতা। কারণ করোনা শেষ হয়ে যায়নি—নতুন নতুন প্রবাহ নিয়ে বারবার ফিরে আসার সক্ষমতা এখনো ভাইরাসটির রয়েছে।






