নেপালের সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের জেরে বিহার - নেপাল সীমান্তে কড়া নজরদারি

সংগৃহীত ছবি
নেপালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতাতার জেরে ভারত-নেপাল সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল ভারতের বিহার রাজ্য। ১ অগাস্ট নেপাল সীমান্তবর্তী মধুবনী জেলাজুড়ে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সীমান্তের প্রধান ও বিকল্প রাস্তাগুলিতে চলছে কড়া তল্লাশি এবং নজরদারি। যাতে নেপালের অশান্তির প্রভাব ভারতের ভূখণ্ডে না পড়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে যে, সীমান্তবর্তী থানাগুলিকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যানবাহন ও যাত্রীদের পরিচয় যাচাই ও সন্দেহজনক গতিবিধির উপর নজরদারি এবং প্রয়োজনে বিশেষ তল্লাশি অভিযানও চালানো হচ্ছে। বাসিন্দাদের গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করারও আবেদন জানানো হয় পুলিশের তরফে।
উল্লেখ্য যে, রবিবার নেপালের কোশি প্রদেশের সুনসারি জেলার দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় একটি হিন্দু ধর্মীয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে লাউডস্পিকার এবং ধর্মীয় পতাকা নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষই পরে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশ গুলিও চালায়। নেপালের সরকারি হিসাবে, সংঘর্ষ এবং পরবর্তী অশান্তিতে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ জন।
সুনসারি থেকে অশান্তি পরে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন গ্রাম সপ্তরী, সিরাহা সহ কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কার্ফু জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে নেপাল সরকার। এখনও বহু এলাকায় কড়া বিধিনিষেধ বহাল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন শাহ ৩১ জুলাই দেশবাসীর উদ্দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও করেছে নেপাল সরকার।
উল্লেখ্য যে, উন্মুক্ত ভারত - নেপাল সীমান্তের কারণে যাতায়াত স্বাভাবিক থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিহার প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। প্রশাসনের দাবি সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।






