কানাডার ইহুদি এলাকায় গুলি, নিহত ৩

ঘটনাস্থলে উদ্ধারকারী ও প্যারামেডিক দলের সদস্যরা। ছবি : সংগৃহীত
কানাডার মন্ট্রিলের ইহুদি অধ্যুষিত কোত-দে-নেজ এলাকায় বন্দুক হামলায় পুলিশ কর্মকর্তা ও এক ইহুদি বেসামরিক নাগরিকসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হিলটন হোটেলের কাছে আকস্মিকভাবে গুলির শব্দ শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অন্তত ২০ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে।
ঘটনাস্থলটি ইহুদি সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র—সেখানে একাধিক কোশার রেস্তোরাঁ, চাবাদ সেন্টার, ইহুদি স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। ঘটনার পরপরই আশপাশের সব ইহুদি প্রতিষ্ঠানে লকডাউন জারি করা হয়।
নিহত ইহুদি বেসামরিক ব্যক্তির নাম মাইকেল মোশে মিজরাহি। তিনি স্থানীয় চাবাদ সেন্টারের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। মূলত লেবাননের বাসিন্দা মিজরাহি পরবর্তীকালে ইসরায়েলে ও পরে মন্ট্রিলে বসবাস শুরু করেন। ইসরায়েলে তার এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তার মরদেহ ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
নিহত পুলিশ কর্মকর্তা হলেন মন্ট্রিল পুলিশের কনস্টেবল মোহামেদ লামিন বেনরেদুয়ান (৩৪)। তিনি ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন।
হামলাকারীকে স্থানীয় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ধরে ফেলে। সে আলবার্টা প্রদেশের বাসিন্দা এবং নাম সেথ হ্যাটফিল্ড বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি ঘটনার আগে কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে মন্ট্রিলে আসেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, হামলার আগে তিনি ১০৪ পৃষ্ঠার একটি ইস্তেহার প্রকাশ করেছেন, যেখানে পুঁজিবাদী সমাজ, পুলিশ, ইহুদি, নারী ও পর্নোগ্রাফির বিরুদ্ধে উগ্র বক্তব্য রয়েছে।
ঘটনার পরপরই কোত-দে-নেজ এলাকায় সশস্ত্র ও বিপজ্জনক সতর্কতা জারি করে এবং বাসিন্দাদের ঘরে থাকার নির্দেশ দেয়। পরে এলাকায় আর কোনো হামলাকারী না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ প্রধান ফাদি দাগের এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, তদন্ত এখনো চলমান। ১৯৮৯ সালে মন্ট্রিলের পলিটেকনিকে ১৪ নারী শিক্ষার্থীকে হত্যার ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা। সোমবারের ঘটনাস্থল সেখান থেকে অল্প দূরেই।
সূত্র : দ্য জেরুজালেম পোস্ট




