দেশ না ছাড়লে ফিরতে হবে কফিনে!

সংগৃহীত ছবি
‘এখনই দেশ ছাড়ো। না হলে কফিনে ফিরতে হবে’— কথাগুলো শুনে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি কাউঙ্গা নিয়িরেন্ডা। ১৬ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই তার বসবাস। মালাউই থেকে এসে জোহানেসবার্গের এক উপশহরে মালী হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু জুনের শুরুতে দুই ব্যক্তি তার বাড়িতে এসে স্পষ্ট হুমকি দিয়ে যায়— ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়তে হবে, না হলে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
নিয়িরেন্ডার গল্প এখন আর ব্যতিক্রম নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে অভিবাসীবিরোধী আন্দোলন। বিদেশিরা স্থানীয়দের কাজ কেড়ে নিচ্ছেন, অপরাধ বাড়াচ্ছেন এবং সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ তৈরি করছেন— এই অভিযোগ তুলে পথে নেমেছে একাধিক সংগঠন। তাদের বিক্ষোভের জেরে এরই মধ্যে বিদেশি নাগরিকদের ওপর হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ এবং ‘অপারেশন দুদুলা’ নামে দুটি সংগঠন। তাদের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের অবিলম্বে দেশ থেকে তাড়াতে হবে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ নকোসিখোনা এনডাবান্দাবা, যিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী নিয়ে ৩০ জুনকে বিদেশিদের জন্য ‘শেষ সময়সীমা’ বলে ঘোষণা করেছেন। এই হুমকির আবহে ভয় ছড়িয়েছে অভিবাসী মহলে। কেপ টাউন, ডারবান, জোহানেসবার্গসহ বিভিন্ন শহরে বহু মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে দূতাবাসের সামনে বা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে ভিড় করছেন। জিম্বাবুয়ে, মালাউই ও মোজাম্বিকের শত শত নাগরিক দেশে ফেরার জন্য নাম নথিভুক্ত করছেন।
তবু আতঙ্ক কাটছে না। দুই সপ্তাহে ১৩ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিক হয় দেশে ফিরে গিয়েছেন, নয়তো তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।




