প্রতিবেশীদের বিমানবন্দরে কেন হামলা করছে ইরান?

সংগৃহীত ছবি
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটির পাশাপাশি অন্যতম লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এসব বিমানবন্দর।
ফলে তেল শিল্পের পাশাপাশি, বিস্তৃত হতে থাকা এই সংঘাত অঞ্চলটির বিমান চলাচল খাতেও প্রভাব ফেলছে।
বিশ্বের সঙ্গে কম সময়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে বিমানবন্দরই একমাত্র সম্বল। তাদের বিমানবন্দরগুলো বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভ্রমণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।
এছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থনীতির একটি প্রধান ভিত্তি হলো এসব বিমানবন্দর। এগুলোর মাধ্যমে খাদ্য আমদানি করা হয়, প্রবাসী কর্মীদের আনা-নেওয়া করা হয় এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য সহজতর করা হয়।
সেই বিমানবন্দরগুলোতে এখন তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। ইরান তার প্রতিবেশী দেশগুলোর এমন জায়গায় আঘাত হানছে, যা তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এরমাধ্যমে বলতে গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর গলা টিপে ধরেছে তেহরান।
ইতোমধ্যে কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের এয়ারপোর্টে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ করা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো বিপুল পরিমাণ এয়ার কার্গো পরিবহনে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই সংকট কতদিন স্থায়ী হবে এবং দেশগুলো কতদিন পর্যন্ত এই অর্থনৈতিক ক্ষতি সহ্য করতে পারবে— তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এদিকে, সোমবার সকালে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কিছু দেশের বিমান সংস্থার শেয়ারমূল্য পতনের মাধ্যমে এই হামলার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার ক্যান্টাস এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স এবং জাপান এয়ারলাইন্সের শেয়ার সোমবার ৫%-এর বেশি কমেছে।
ইরান সমুদ্রবন্দর ও নৌপথেও হামলা চালিয়েছে। যার যার ফলে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ।

