ব্রিটিশ ইয়টের কাছে রুশ যুদ্ধজাহাজের গুলি

সংগৃহীত ছবি
ইংলিশ চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ নিবন্ধিত ইয়টের কাছে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ।
মঙ্গলবার সকালে আইল অব ওয়াইট ও ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলের মাঝামাঝি এলাকার ঘটনা এটি। তবে এতে কেউ হতাহত হননি এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া যায়নি।
ঘটনায় জড়িত রুশ ফ্রিগেট যুদ্ধজাহাজটির নাম অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ। এটিকে একটি ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, গত রবিবার চ্যানেলে রুশ ছায়া নৌবহরের একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটির দিকে ‘বিপজ্জনকভাবে অগ্রসর’ হচ্ছিল ইয়টটি। রেডিওতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা এবং সতর্কতামূলক আলোক সংকেত ছোড়ার পরও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ইয়টের গতিপথের সামনে রাইফেল থেকে গুলি ছোড়েন নাবিকেরা। তাদের ভাষ্য, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল বিধি কঠোরভাবে মেনেই নেওয়া হয়েছে এ পদক্ষেপ।
অন্যদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করছে তারা। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্রের দাবি, ‘চ্যানেলে একটি ব্রিটিশ নৌযানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে গ্রিগোরোভিচ। তবে নৌযানটিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়নি। সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছিল এ ব্যবস্থা।’
প্রতিবেদন বলছে, ষাটোর্ধ্ব এক দম্পতি ছিলেন ইয়টটিতে। যুদ্ধজাহাজের হর্নের শব্দ শুনতে পাননি তারা। যুক্তরাজ্য থেকে যাত্রা শুরুর পর কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় ইঞ্জিনবিহীন ছোট ইয়টটি ভেসে আসে যুদ্ধজাহাজটির কাছাকাছি।
ব্রিটিশ কর্মকর্তারা মনে করছেন, রুশ যুদ্ধজাহাজটি সম্ভবত বুঝতে পেরেছিল যে ইয়টটি নিজস্ব শক্তিতে চলছিল না, বরং স্রোতের কারণে ভেসে যাচ্ছিল। ফলে এটি কম নিয়ন্ত্রণযোগ্য হয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়।
ঘটনার পর ব্রিটিশ টহল জাহাজ এইচএমএস টাইনের একটি নৌকা ইয়টটির কাছে পাঠানো হয়। পরে নৌকাটির আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সংগ্রহ করা হয় বিস্তারিত তথ্য।
এমন এক সময়ে এ ঘটনা, যখন রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বেড়েছে উত্তেজনা। রবিবার প্রথমবারের মতো একটি অভিযানে রুশ ছায়া নৌবহরের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলবাহী জাহাজ আটক করে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। যদিও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মনে করছে, মঙ্গলবারের ঘটনাটি ওই অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
কয়েক দিন ধরে ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ এইচএমএস মার্সির নজরদারিতে ছিল অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচ। ফ্রান্সের ব্রেস্ট উপকূলের কাছে জাহাজটিকে প্রথম শনাক্ত করা হয়। রয়্যাল নেভি একে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের অংশ বলে উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার সকালে ইয়টটির আরোহীরা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে জানান, প্রায় ৫০০ গজ দূরত্ব থেকে সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছে রুশ যুদ্ধজাহাজটি। সমুদ্রপথে চলাচলের মানদণ্ড অনুযায়ী এটি তুলনামূলকভাবে কাছের দূরত্ব। ঘটনাস্থল ছিল আইল অব ওয়াইটের দক্ষিণে প্রায় ২০ নটিক্যাল মাইল দূরে, যা যুক্তরাজ্যের আঞ্চলিক জলসীমার বাইরে।
গত সপ্তাহে ন্যাটোর একটি সূত্র বিবিসিকে জানায়, অ্যাডমিরাল গ্রিগোরোভিচকে ছায়া নৌবহরের জাহাজগুলোকে চ্যানেল অতিক্রমে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছিল মস্কো। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, একটি সহায়ক মেরামত জাহাজ নিয়মিত খাদ্য, পানি ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করে যুদ্ধজাহাজটিকে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের সুযোগ করে দিচ্ছে।
এ বছরের এপ্রিল মাসে গ্রিগোরোভিচ ছয়টি ছায়া নৌবহরের জাহাজকে চ্যানেল পারাপারে সহায়তা করেছিল বলে খবর প্রকাশিত হয়। তখনও জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল রয়্যাল নেভি।
রয়্যাল নেভির সাবেক রিয়ার অ্যাডমিরাল জেমস পারকিন বলেন, ‘সশস্ত্র শক্তি ব্যবহার সর্বশেষ বিকল্প। এটি কেবল আত্মরক্ষার ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করা হয়।’ তিনি মন্তব্য করেন, ‘আমি অবাক হব না যদি এটি ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ না হয়ে ভুল হিসাবের ফল হয়ে থাকে। ব্রিটিশ একটি ইয়টকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর উদ্দেশ্য ছিল বলে আমি মনে করি না।’
তবে পারকিনের মতে, ছায়া নৌবহরের তেলবাহী জাহাজ জব্দের ঘটনা মস্কোর জন্য ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ তৈরি করেছে। কারণ ইংলিশ চ্যানেলে অবস্থানরত রুশ যুদ্ধজাহাজটির অন্যতম উদ্দেশ্যই ছিল এমন ঘটনা প্রতিরোধ করা।




