ল্যাবকর্মীর মৃত্যু
প্লেগের শঙ্কা উড়িয়ে দিল রাশিয়া, বিপজ্জনক জীবাণু না মেলার দাবি

সংগৃহীত ছবি
সাইবেরিয়ার একটি প্লেগ গবেষণাকেন্দ্রে মারা যাওয়া এক ল্যাবকর্মীর সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে রাশিয়া। পরীক্ষায় কোনো বিপজ্জনক রোগজীবাণু পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বিষয়টির এখানেই ইতি টানার ইচ্ছার ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটি।
রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য নজরদারি সংস্থা ও আঞ্চলিক গভর্নরের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ওই মৃত নারীর সংস্পর্শে আসা সব ব্যক্তির ওপর নজরদারি শেষ হয়েছে। প্রায় ৫ হাজার নমুনার পরীক্ষায় কোনো বিপজ্জনক রোগজীবাণু পাওয়া যায়নি বলেও আবার জানানো হয়েছে।
ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ বলেন, ‘তীব্র গণমাধ্যম নজরদারির মধ্যে বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করেছেন। এটি ছিল একটি পরীক্ষা, তবে আমরা যথাযথভাবেই তা উতরে গেছি।’
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপের পরও রুশ কর্তৃপক্ষ এখনো নিশ্চিত করে বলেনি, ২৮ বছর বয়সী ল্যাবকর্মী দারিয়া শিপিলোভার ২ অক্টোবরের মৃত্যু প্লেগের কারণে হয়ে থাকতে পারে কি না।
ডব্লিউএইচওর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মারিয়া ভ্যান কারখোভে বুধবার বলেন, রাশিয়ায় কী কী পরীক্ষাগার পরীক্ষা করা হয়েছে এবং কোন কোন রোগজীবাণু পরীক্ষা করা হয়েছে, সে বিষয়ে আরও তথ্য চায় সংস্থাটি। তিনি বলেন, ‘এই ব্যক্তি যদি প্লেগে মারা না গিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি কীভাবে মারা গেলেন?’
রাশিয়া বলছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তারা ডব্লিউএইচওকে সব তথ্যই দিয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার ঘটনাগুলোর বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক। কারণ চীনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের রোগের একগুচ্ছ ঘটনা দিয়েই কোভিড-১৯ মহামারির সূচনা হয়েছিল।
তবে পৃথক নিউমোনিয়ার ঘটনাগুলোর কারণ অনেক সময়ই নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না।
প্লেগ ছাড়াও ফুসফুসের এই সংক্রমণের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অন্যান্য ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং কোভিড-১৯ বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ।




