গাজায় এখন ৪০ সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলের

সংগৃহীত ছবি
যুদ্ধবিরতি চলছে গাজায়। প্রায় সাত মাস হতে চলল। কিন্তু থেমে নেই হামলা। যুদ্ধবিধ্বস্ত অবরুদ্ধ ওই উপত্যকায় ইসরায়েল সেনাদের বর্বরতা এখনো নিত্যদিনের আতঙ্ক। এর মাঝেই আলজাজিরার স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়ল আরেক ভয়ংকর দৃশ্য। গাজার ইয়োলো লাইন বরাবর ৪০টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর মধ্যে ৮টি নির্মিত হয়েছে যুদ্ধবিরতির পর। একটি এখনো নির্মাণাধীন।
চুক্তিতে ইসরায়েল তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানছে না। বরং গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের ঘাঁটি আগে থেকে বেড়েছে অনেক। যুদ্ধবিরতি চুক্তির সাত মাস পরও ফিলিস্তিনের অনেক জনবহুল এলাকায় তাদের অবস্থান চিত্রও উঠে এসেছে স্যটেলাইটে।
মে ২০২৬ পর্যন্ত বিভিন্ন চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গাজার উত্তর থেকে দক্ষিণ সব অঞ্চলেই ছড়িয়ে আছে ইসরায়েলিদের ঘাঁটি। অনেক অংশে ইসরায়েলি সেনারা এখনো সক্রিয়। গাড়িবহরে সৈনিক আনা-নেওয়া করতে তারা তৈরি করেছে রাস্তা। বাড়িয়েছে হামলা প্রতিহত করার কৌশল।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর স্বাক্ষর হয় যুদ্ধবিরতি চুক্তি। সে সময়ের গাজার সেটেলাইট ছবি এবং এ বছরের মে মাসের ছবি তুলনা করলে বের হয়ে আসে এ ভয়াবহ চিত্র। গত সাত মাসে ইসরায়েল গাজার অনেক স্থান থেকে তাদের সৈনিক সরায়নি। বরং ‘হলুদ লাইন’-এর মধ্যে গড়ে তুলেছে প্রায় ৮টি নতুন ঘাঁটি। গাজার উত্তর দিকে দুটি, জুহর আদ-দিক অঞ্চলে একটি, গাজার মাঝ সেক্টরে দুটি এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে তিনটি ঘাঁটি নতুন করে উঠে এসেছে গত মাসের চিত্রে।
২০২৫ সালের অক্টোবর ১৮ এবং ২০২৬ সালের মে ১৮, এই দুদিনের চিত্র মূলত বিশ্লেষণ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। প্রতিটি নতুন ঘাঁটির ভিন্ন অবস্থা চোখে পড়ে ভিন্ন দুটি ছবিতে। গত বছর এসব জাগায় তখনো নামগন্ধ ছিল না ইসরায়েলের। ছবিতে ফাঁকা ময়দান হিসেবে দেখা যায় এসব স্থান। কিন্তু মে মাসেই ভিন্ন দৃশ্য। প্রতিটি জায়গায় গড়ে উঠছে বা উঠেছে সামরিক ঘাঁটি। আগের চেয়ে ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি হয়ে সেখানে এখন নতুন করে সামরিক গাড়ি মোতায়েন এবং অভ্যন্তরীণ নানান পরিবর্তন এনেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিনিদের আবাসের স্থান ঘিরেই গড়ে উঠেছে এসব ঘাঁটি। এতে করে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে চলাফেরায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে অসহায় ফিলিস্তিনিদের। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। বর্বর ওই হামলায় এ পর্যন্ত ৭২ হাজার ৯৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯-এরও বেশি। যার মধ্যে অধিকাংশ নারী ও শিশু। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পরও নিহত হয়েছেন ৯২৯ ফিলিস্তিনি। আহত ২ হাজার ৮১১ জন।




