আগামীর সময়

লেবাননেও গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি ইসরায়েলের

লেবাননেও গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি ইসরায়েলের

সীমান্তে ইসরায়েলি স্থল বাহিনীর প্রস্তুতি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর যুদ্ধে যুক্ত হয় লেবাননের সশস্ত্রগোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তারা ইসরায়েলের উত্তর, হাইফা, তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে।

অন্যদিকে এর শোধ নিতে লেবাননের দক্ষিণাংশ, বৈরুত এবং দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছে তেলআবিব। এসব হামলার পরও যখন হিজবুল্লাহর আক্রমণ ঠেকানো যাচ্ছে না, তখন লেবাননেও গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েল এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে শুক্রবার অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, লিতানি নদীর দক্ষিণে হিজবুল্লাহর সম্পদ ধ্বংস করার জন্য ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে একটি বড় আকারের আক্রমণের পরিকল্পনা করছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এমন একটি অভিযানের পরিকল্পনা করছেন, যা হবে ২০০৬ সালের যুদ্ধের পর লেবাননে পরিচালিত সবচেয়ে বড় অভিযান। এর আওতায় সামরিক বাহিনী লিতানি নদীর দক্ষিণে পুরো এলাকা দখল করবে এবং হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ভেঙে দেবে।

অ্যাক্সিওসকে একজন জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, গাজায় যা করেছি, আমরা লেবাননেও তাই করব।

প্রতিবেদন অনুসারে, ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর ব্যাপক হামলার পর এ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সম্প্রতি হিজবুল্লাহ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে সমন্বয় করে ইসরায়েলে ২০০টিরও বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।

ঊর্ধ্বতন ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়ছে, এই হামলার আগে আমরা লেবাননে যুদ্ধবিরতির জন্য প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু এখন লেবাননে বড় অভিযান থেকে আর পিছু হটার উপায় নেই।

অভিযানের লক্ষ্য সম্পর্কে বলতে গিয়ে ইসারায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, লক্ষ্য হলো অঞ্চল দখল করা। হিজবুল্লাহর বাহিনীকে সীমান্ত থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া। এছাড়া সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে থাকা তাদের সামরিক অবস্থান এবং অস্ত্রের গুদাম ভেঙে ফেলা।

এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী যদিও বলেছিল, তারা হিজবুল্লাহর অব্যাহত আক্রমণ সত্ত্বেও লেবাননে বড় আকারের অভিযান চালাবে না।

তবে এরপর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ হুমকি দিয়ে বলেছেন, লেবাননে সামরিক অভিযান আসন্ন। তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনকে জানিয়েছেন, যদি লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহকে না দমায়, তাহেলে আইডিএফ সেখানে বড় আকারে সামরিক অভিযান চালাবে।

এর আগে গাজায় হামাসের সমর্থনে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা শুরু করে। পাল্টা হামলায় ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান হাসান নাসরুল্লাহসহ বহু শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে।

এরপর ২০২৪ সালের দিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে লেবাননে হিজবুল্লাহর টার্গেটে নিয়মিত হামলা চালিয়েছে তেলআবিব।

সূত্র : জেরুজালেম পোস্ট

    শেয়ার করুন: