মার্কিন-ইসরায়েলি বোমাবাজির মধ্যে বর্ষবরণের প্রস্তুতি ইরানে

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্যে নববর্ষের আগে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে লোকজনের ভিড়। ছবি: সংগৃহীত
ফেব্রুয়ারির শেষ দিন থেকেই ইরান কাঁপছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমার আঘাতে। বিষাদ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। প্রায় প্রতিদিনই দেশটি হারাচ্ছে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বা সামরিক নেতা।
জানাজা, দাফন আর শোক করতে করতেই দিন পার হচ্ছে ইসলামী বিপ্লবের সমর্থকদের। সেই বিধ্বস্ত দেশে আগামীকাল শুক্রবার উদযাপিত হবে নওরোজ বা নববর্ষ।
এই উৎসবকে আনন্দময় করে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানিরা।
যুদ্ধের তীব্রতার মধ্যেও তেহরানে অনেক মানুষের দৈনন্দিন জীবন সম্পূর্ণভাবে থমকে যায়নি। বাজারেও স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে।
তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারের চঞ্চলতা দেখলে মনে হবে দেশে বুঝি সবকিছুই চলছে একদম ঠিকঠাক। এ দৃশ্য রাজধানীর বাসিন্দাদের মনে নিয়ে আসে এক ধরনের স্বাভাবিকতার অনুভূতি।
সেই তেহরানের বাসিন্দা সদরা নুরি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জানিয়েছেন যুদ্ধের মধ্যে তাদের দৈনন্দিন জীবনের গল্প।
তেহরানের সবচেয়ে পুরনো রাস্তাগুলোর একটিতে হাঁটতে হাঁটতে নুরি বলেছেন, জীবন চলছে তার নিয়মেই। গত ১৮ দিন ধরে যদিও মানুষ ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন ও বিস্ফোরণের শব্দের মধ্যে বসবাস করছে।
তার পাঠানো ছবিতে দেখা যায় যে, মানুষ বাজারে স্বাভাবিকভাবেই কেনাকাটা করছে।
নুরি আরও বলেছেন, বাজারের আশেপাশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে বাজার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে। কিন্তু এসব ঘটনা এখানকার পরিস্থিতি বদলাতে পারেনি। বাজারে অনেক মানুষ আসছেন। তাদের মধ্যে ভয়, অসহায়ত্ব বা উদ্বেগ আমি দেখিনি।
মানুষ স্বাভাবিকভাবে তাদের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন এবং উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান নুরি। তার ভাষ্য, বাজারে মানুষ আসছে খাবার, মুদি সামগ্রী এবং নববর্ষের উৎসবের জন্য জিনিস কিনতে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ইরানে এ পর্যন্ত এক হাজার ৪৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য, নিরাপাত্তা প্রধান আলী লারিজানিসহ বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা। এছাড়া নিহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছে।
এছাড়া লেবাননেও সমানতালে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে ইসরায়েল। সেখানে তেল আবিবের হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ৯৬৮ জন।
সূত্র: আলজাজিরা

