ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচি। ফাইল ছবি / সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মেহরদাদ আখলাঘি কেতাবচিকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। দীর্ঘদিন দেশটির প্রতিরক্ষা ও মহাকাশ শিল্পে কাজ করা কেতাবচি এর আগে ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের (এআইও) প্রধান ছিলেন।
রবিবার পার্লামেন্টের অধিবেশনে তার যোগ্যতা ও পরিকল্পনা পর্যালোচনার পর আইনপ্রণেতারা আস্থা ভোট দেন। উপস্থিত ২৭৭ আইনপ্রণেতার মধ্যে ২৩৭ জন কেতাবচির পক্ষে এবং ১৫ জন বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
অধিবেশনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কেতাবচির মনোনয়নের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
এর আগে পেজেশকিয়ান পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কেতাবচিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনও তার কর্মপরিকল্পনা ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে মনোনয়নের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।
৬৮ বছর বয়সী কেতাবচি ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের একজন দীর্ঘদিনের কর্মকর্তা। তার জন্ম ১৯৫৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর। প্রকাশ্য সূত্রে তার ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা ও কর্মজীবনের শুরুর দিক সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায় না। তবে কয়েক দশক ধরে ইরানের প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে।
কেতাবচি ইরানের অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ অর্গানাইজেশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি শহীদ বাঘেরি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপেরও প্রধান ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত বলে পশ্চিমা দেশ ও জাতিসংঘের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কেতাবচির নাম দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রয়েছে। ২০০৭ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রও তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকাতেও তার নাম রয়েছে।
নাসিরজাদেহ ২০২৪ সালে ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের বিমানবাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। পরে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিমানবাহিনীতে ছিলেন এবং এফ-১৪ যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষিত পাইলট ছিলেন।
নাসিরজাদেহর মৃত্যুর প্রায় আট মাস পর পূর্ণকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেল ইরান। নতুন দায়িত্বে কেতাবচি দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন ও সংগ্রহ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেবেন। দীর্ঘদিন ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত একজন কর্মকর্তাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েক মাসের অন্তর্বর্তী নেতৃত্বেরও অবসান হলো।
সূত্র : আলজাজিরা




