যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মেয়াদ বাড়িয়ে নিল লেবানন পার্লামেন্ট
- ৭৬ জন আইনপ্রণেতা মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে
- এক সপ্তাহ আগে আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়ায় লেবানন
- সিরিয়ায় যুদ্ধ চলাকালেও পার্লামেন্ট মেয়াদ বাড়িয়েছিল

সংগৃহীত ছবি
বাজছে যুদ্ধের দামামা। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে জানা নেই কারও। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে পেছাল লেবাননের পার্লামেন্ট নির্বাচন। চলতি বছরের মে মাসে হতে যাওয়া এই নির্বাচন দুই বছর পর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ লেবাননের পার্লামেন্ট দুই বছর বাড়িয়েছে নিজেদের মেয়াদ। সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।
‘চলতি বছরের মে মাসে আইনসভা নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন’, বিবৃতিতে জানিয়েছেন পার্লামেন্ট স্পিকার নবীহ বেরি। এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর চলমান সংঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দিন বৈরুতের পার্লামেন্টে বৈঠকে বসেন সংসদ সদস্যরা। বৈঠকে হিজবুল্লাহর পার্লামেন্টারি ব্লকের প্রধান মোহাম্মদ রাদসহ অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সে সময় বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরের আকাশে টহল দিচ্ছিল ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান।
নবীহ বেরির দপ্তর জানিয়েছে, ১২৮ সদস্যের সংসদের মধ্যে ৭৬ জন আইনপ্রণেতা মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান সামরিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে লেবাননে স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এক সপ্তাহ আগে আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে লেবানন, যখন ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন ছোড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। জবাবে ইসরায়েলও লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ চালায়।
লেবাননে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন হয় ২০২২ সালে। রয়টার্স জানিয়েছে, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সর্বশেষ দফার লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বর্তমান সংসদের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল। এর আগেও দেশটির আইনপ্রণেতারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০০৯ সালে নির্বাচিত পার্লামেন্ট নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে নিজেদের মেয়াদ ২০১৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সে সময় প্রতিবেশী দেশ সিরিয়ায় যুদ্ধ চলছিল।

