আগামীর সময়

আল-আকসায় হলো না ঈদের নামাজ

আল-আকসায় হলো না ঈদের নামাজ

শুক্রবার সকালে পুরাতন শহরের বাইরে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান

ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান আল-আকসা মসজিদে ঈদের নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইসরায়েল। ৫৯ বছর পর এবার আল-আকসা মসজিদে ঈদের জামাত হয়নি। মুসল্লিরা পুরোনো শহরের গেটের বাইরে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। খবর আনালদোলু ও গার্ডিয়ানের।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার অজুহাতে আল-আকসায় নামাজে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইসরায়েল। তবে ফিলিস্তিনিরা বলছেন, যুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে আল-আকসার ওপর নিয়ন্ত্রণ পাকাপোক্ত করার বৃহত্তর কৌশল নিয়েছে ইসরায়েল। রোজার মাসে মুসলিমদের জন্য বন্ধ ছিল মসজিদটি।

পুরোনো জেরুজালেমের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী হাজেন বুলবুল শৈশব থেকেই আল-আকসায় ঈদের নামাজ আদায় করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলছিলেন, আগামীকাল জেরুজালেমের মুসলিম উপাসনাকারীদের জন্য সবচেয়ে দুঃখের দিন হবে। এটি একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত হবে বলে আমার আশঙ্কা। হয়তো এটি প্রথমবার হচ্ছে, কিন্তু শেষবার নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে পবিত্র এই শহরে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপ বেড়েই চলেছে, বলছিলেন তিনি।

আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে বিষণ্ণ আবহে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। অন্য বছর ঈদের আগের দিনগুলোতে পুরোনো শহরে ফিলিস্তিনিদের ভিড়ে ভরে যায়। এবার সেখানে অস্বাভাবিক নীরবতা রয়েছে, মনে হয় যেন এক ভূতুড়ে শহর।

সাম্প্রতিক সময়ে পুরাতন শহরে ফিলিস্তিনি মুসল্লি ও ধর্মীয় কর্মীদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ইসরায়েলি সেটেলারদের এখানে অনুপ্রবেশও বেড়েছে। পুলিশ নামাজের সময়সহ মসজিদ চত্বরের ভেতর থেকে বহু ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে।

ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে আল-আকসা মসজিদের খতিব ও জেরুজালেমের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ইকরিমা সাবরি একটি ধর্মীয় ফতোয়া জারি করে মুসলমানদের মসজিদের যতটা সম্ভব নিকটবর্তী স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে আল-আকসা বন্ধের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব লিগ। সংস্থাটি একে আন্তর্জাতিক আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন উল্লেখ করে বলছে, এতে ধর্মীয় উপাসনার স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

    শেয়ার করুন: