ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
২০ ফুট উপরে উঠে গেছে ত্রিনিদাদ

সংগৃহীত ছবি
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ২০ ফুট উপরে উঠে গেছে প্রতিবেশী ক্যারিবিয়ান দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর দক্ষিণপশ্চিম উপকূলের একাংশ। দ্বীপরাষ্ট্রের অনেক জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও দেশটির সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন উপকূলের বাসিন্দারা।
বিরল এ ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনে বিপর্যস্ত ভূমির ধ্বংসাবশেষে মারা গেছে শত শত সামুদ্রিক প্রাণী। আটকাও পড়েছে হাজার হাজার।
এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বীপের কিছু অংশ যে মাটির কয়েক ফুট ওপরের দিকে উঠে এসেছে; এলাকাটি পরিদর্শন করে তা দেখেছেন তাদের প্রতিনিধিরা । শত শত মৃত মাছ, কাঁকড়া, ঝিনুক এমনকি স্টিংরে মাছ (শাপলা পাতা বা হাউশ মাছ) ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সমুদ্রসৈকতের কিছু অংশে তৈরি হয়েছে ছোট ছোট জলাশয়ও।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম এ পরিবর্তন চোখে পড়ে বলে দ্যা এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন উপকূলীয় অঞ্চলটির বাসিন্দা কামাল বাইকেরান। ত্রিনিদাদের এ এলাকার নিচেই রয়েছে টেকটনিক প্লেটস। ক্যারিবিয়ান প্লেট ও দক্ষিণ আমেরিকান প্লেট। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প আঘাত হানায় এখানের প্লেটসগুলোতেও আসে পরিবর্তন। তাল হারিয়ে কিছুক্ষণের জন্য নড়েচড়ে বসে ভূমি। আকস্মিক এ গতিতে সেখানকার ভূ-পৃষ্ঠ সরে যাওয়ার কারণে উপরে উঠে আসে উপকূল। তার ভাষ্য, ‘ভূমিকম্পের রাতেই এটি জেগে উঠেছিল। আমি যখন সেই ভূখণ্ডের দিকে তাকালাম, তখন সেখানে একঝাঁক মাছ দেখতে পেলাম। চোখের পলকে সবকিছু উপরে উঠে এল। যদি প্রক্রিয়াটি ধীরগতির হতো, তবে মাছগুলো নিশ্চয়ই পালিয়ে যেত।‘
এ বিষয়ে ভূতাত্ত্বিক জেভিয়ার মুনান জানিয়েছেন, কোনো ‘স্লাম্প’ বা ভূমিধসের প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠার কারণেই সম্ভবত এই ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, ‘ভূমিধ্বসের সময় পাহাড়ের ঢাল বেয়ে যেমন নিচে নেমে আসে পাথরের বিশাল বড় বড় চাঁই; ভূমিকম্পে ঠিক সেভাবেই নিচে নেমে গেছে সমুদ্রও।
মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই এ ঘটনা ঘটেছে বলেও মন্তব্য করেছেন মুনান। তার মতে, এত দ্রুত হয়েছে যে, সরে যাওয়ার সময়ও পায়নি সামুদ্রিক প্রাণিগুলো।
ভিন্ন এ ভূ-প্রাকৃতিক পরিবর্তনের বিশ্লেষণে এমনটাই জানান মুনান। তবে ক্যারিবিয়ান এ দ্বীপে এবারই প্রথম ঘটেনি এ ঘটনা। এর আগে ২০১৮ সালে ত্রিনিদাদে ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্পের পরও উপরে উঠে যায় উপকূল। মুনান জানিয়েছেন, ‘ত্রিনিদাদে যখন মৃদু কম্পন অনুভূত হয় কিংবা ভেনেজুয়েলার কোনো ভূ-কম্পনজনিত প্রভাব ফল্ট লাইনস ধরে ছড়িয়ে পড়ে, তখন এখানকার অপেক্ষাকৃত দুর্বল অঞ্চলগুলোতেও নড়াচড়া বা ভূ-চ্যুতি ঘটে।‘
ভেনেজুয়েলার স্থানীয় সময় বুধবার ছয়টা চার মিনিটে আঘাত আনে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ছিল ৭.৫ মাত্রার। এ ভূকম্পে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ । নিখোঁজ অর্ধলাখ।





