ভেঙে পড়েছে শিক্ষার দেয়াল রাজপথে ফুঁসছে ফ্রান্স

ভেঙে পড়েছে ফ্রান্সের শিক্ষা খাতের দেয়াল। সরকারের হঠাৎ ব্যয়সংকোচন নীতিতে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে স্কুল ভবনগুলো। সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষক সংকট। তার ওপর ভর করেছে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ। গত কয়েক বছরের ‘অবহেলা’য় জমে ওঠা ক্ষোভে তিন সপ্তাহ ধরেই বিক্ষোভে নেমেছে দেশটির হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ ট্রেড ইউনিয়নগুলোও। গতকাল মঙ্গলবার চরম আকার ধারণ করে সে বিক্ষোভ। ফ্রান্স জুড়ে বিক্ষোভে নামে হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা। মার্সেই, নঁত, লিয়ঁ, তুলুজসহ এদিন অন্তত ৩০ শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ করেন তারা। বন্ধ ঘোষণা করা হয় স্থানীয় স্কুলগুলোও। সব মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার হাই স্কুল বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ ছিল। বিকালের দিকে বড় বিক্ষোভ হয়েছে রাজধানী প্যারিসেও। রয়টার্স জানিয়েছে, ১৯৯০ সালের পর এত বড় বিক্ষোভ দেখেনি ফ্রান্স।
সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দরিদ্র উপশহরগুলো থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষ জরাজীর্ণ, কোথাও ছাদ দিয়ে পানি পড়ে, কোথাও ইঁদুরের উপদ্রব রয়েছে। শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যাও অতিরিক্ত।
বিক্ষোভের পেছনে নতুন বাজেট নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে ২০২৭ সালে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ কমছে না; বরং ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো বেড়ে তা প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ইউরো করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫৮৮টি স্থায়ী শিক্ষক পদ কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যার ১ হাজার ২৫০টি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায়। ২০২৬ সালে এর আগে ৪ হাজার শিক্ষক পদ কমানো হয়েছিল। সরকার বলছে, ২০২৭ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কমবে।
ফ্রান্সের শিক্ষা খাতের আরেকটি বড় চাপ পেনশন ব্যয়। রয়টার্সের ২০২৫ সালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রায় ৯০ বিলিয়ন ইউরোর শিক্ষা বাজেটের ২৮ শতাংশের বেশি সরকারি শিক্ষকদের পেনশনব্যবস্থায় অবদান হিসাবে ব্যয় হচ্ছে। ফলে শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ব্যবহারের মতো অর্থের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।



