বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে লাফ

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে স্বর্ণের দাম। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি আস্থা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫২৩২.২১ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি ফেব্রুয়ারিতে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারস ১.২ শতাংশ বেড়ে ৫,২৫৩.২০ ডলারে পৌঁছেছে।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড ব্যাংকিং গ্রুপ (এএনজেড)-এর বিশ্লেষক সোনি কুমারীর মতে, শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি এই দুই প্রধান কারণে স্বর্ণের বাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে এসে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছেন।
অন্যদিকে, এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক লিন ট্রান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দফায় দফায় আলোচনা হলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে স্বর্ণের দাম উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। তবে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও উল্লম্ফন দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৪.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৯২.২০ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনাম ৫.৩ শতাংশ বেড়ে চার সপ্তাহের সর্বোচ্চ ২,৩৯৩.৮০ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়াম ১.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৮১০.৬০ ডলারে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দাম উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

