ইরানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হরমুজ

হরমুজ প্রণালী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে একটি ‘ঐশ্বরিক উপহার’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। তার ভাষ্য, আল্লাহ আমাদের এটি দান করেছেন এবং এই যুদ্ধের সময় এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির হাতিয়ার। তিনি আরও বললেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান তার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখা অব্যাহত রাখবে। গালিবাফ গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভিকে এ কথা বলেন। সিএনএন, আলজাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক নিয়েও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন গালিবাফ। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক শুধু হরমুজে সামুদ্রিক সেবার ফি থেকে ৬০ দিনের জন্য অস্থায়ী অব্যাহতি দিয়েছে।
প্রেস টিভির ওয়েবসাইট অনুযায়ী গালিবাফ বললেন, এগুলো আমাদের আঞ্চলিক জলসীমা। ইরান হরমুজ প্রণালিকে সামরিকীকরণ করেছে— এমন দাবি করে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো বিতর্ক বা কূটতর্ক সৃষ্টির সুযোগ দেব না। যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইরান তার এই অবস্থান থেকে সরবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, আমরা কখনোই, কোনো অবস্থাতেই এ অবস্থান থেকে পিছু হটব না।
দোহায় পরোক্ষ আলোচনা: কাতারের রাজধানী দোহায় চলছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ‘কারিগরি বা প্রযুক্তিগত স্তরের’ পরোক্ষ আলোচনা। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বসেনি ইরানের প্রতিনিধিদল। এটি ছিল মূলত মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। সেখানে মাইন অপসারণ করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, ইরানের জব্দ ৬ বিলিয়ন ডলার অবমুক্তি, লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করছে কি না যুক্তরাষ্ট্র— তা নিয়ে কাতার ও পাকিস্তানের কাছে নিজেদের চূড়ান্ত দাবি ও আপত্তিগুলো জমা দিয়েছে তেহরান। তবে এখনো শেষ হয়নি আলোচনাপর্ব। ইরানের বার্তা নিয়ে দোহায় অবস্থানরত মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বসার কথা মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের। স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার সকালে শুরু হয় আলোচনা। শেষ হয় কয়েক দফায়। প্রথমে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির সঙ্গে একক বৈঠক করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। পরে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসে ইরান। সবশেষে কাতারের সেন্ট্রাল ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আর্থিক তহবিল-সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার দিকে আলোচনাপর্ব সমাপ্ত ঘোষণা করে ইরান। সরাসরি আলোচনা হচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করলেও ইরান তা অস্বীকার করেছে। তেহরানের ভাষ্য, কাতারের মধ্যস্থতায় শুধু পরোক্ষ আলোচনা চলছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল অংশ নিচ্ছে আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার।
আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কূটনৈতিক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন এ তথ্য। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে; যার মধ্যে ইরানের জব্দ করা সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টিও রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।




