টানা তৃতীয় দিনে ইরানি শিক্ষার্থীদের সরকার বিরোধী বিক্ষোভ

আল-জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানুয়ারিতে নিরাপত্তা বাহিনী হাজারো মানুষকে হত্যা করে ব্যাপক বিক্ষোভ দমন করার কয়েক সপ্তাহ পর এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করার প্রেক্ষাপটে ইরানের শিক্ষার্থীরা সোমবার টানা তৃতীয় দিনের মতো সরকার বিরোধী বিক্ষোভে নেমেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, রাজধানীতে অবস্থিত তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত আল-জাহরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া আমির কবির বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বৈরুত দূতাবাস থেকে অপ্রয়োজনীয় কর্মীদের স্বপরিবার সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে বলে স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
জানুয়ারিতে ইরানজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের পর থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে হুমকি দিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে আলোচনায় কোনো চুক্তি না হলে ‘খুবই খারাপ ঘটনা ঘটবে।’
ওয়াশিংটন চায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির বড় অংশ ত্যাগ করুক, ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করুক এবং মধ্যপ্রাচ্যে সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করুক।
এদিকেম চলমান আলোচনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে, যা মার্কিন দাবির বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া বিবেচনার সময় দেশটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপে দুর্বল অর্থনীতি এবং জানুয়ারিতে বড় আকারের বিক্ষোভে রূপ নেওয়া ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি তার ৩৬ বছরের শাসনামলের সবচেয়ে গুরুতর সংকটের মুখোমুখি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান রবিবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ‘উৎসাহব্যঞ্জক ইঙ্গিত’ দিয়েছে, এমন সময় দ্বিতীয় একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সম্ভাব্য ইরান হামলা নিয়ে ট্রাম্প বিস্তারিত কোনো অবস্থান প্রকাশ করেননি। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, হামলা চালানোর বিষয়ে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ‘একক সমর্থন’ গড়ে ওঠেনি।

