মেঘালয়-বাংলাদেশ সীমান্তে রাতে চলাচলে বিধিনিষেধের প্রস্তুতি
- সীমান্তবর্তী এলাকায় কারফিউয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ
- স্থানীয় নেতৃত্ব ও গ্রাম প্রতিরক্ষা দলের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর জোর

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় অননুমোদিত পারাপার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সীমান্ত এলাকায় কারফিউ জারির প্রক্রিয়া শুরু করতে জেলা প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে মেঘালয় সরকার। মঙ্গলবার উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসংয়ের সভাপতিত্বে বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
টিনসং জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় কারফিউ সংক্রান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে স্থানীয় প্রথাগত নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন রংবাহ শ্নং বা স্থানীয় গ্রামের প্রথাগত প্রধানরাও।
আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাছাকাছি গ্রামগুলিতে নজরদারি বাড়াতে ভিলেজ ডিফেন্স পার্টি (ভিডিপি)-কেও সক্রিয় করা হয়েছে। স্থানীয় নেতা, গ্রামপ্রধান এবং ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সীমান্তে বিএসএফ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও অননুমোদিত পারাপার নিয়ে প্রশ্ন উঠলে টিনসং মেঘালয়ের ভূপ্রকৃতির কথা তুলে ধরেন। তার বক্তব্য, সমতল এলাকার তুলনায় রাজ্যের সীমান্তবর্তী অঞ্চল অনেক বেশি দুর্গম এবং কিছু অংশে পৌঁছনো কঠিন। বিশেষ করে রাতের সময়ে সীমান্তের সব অংশে নিয়মিত নজরদারি চালানো কঠিন বলে তিনি জানিয়েছেন। সীমান্ত পরিকাঠামোর কিছু ঘাটতি এবং বেড়াবিহীন অংশগুলিও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে বলে তার বক্তব্য।
এই পরিস্থিতিতে অননুমোদিত সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে বিএসএফ ও মেঘালয় পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন টিনসং। বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অংশে মেঘালয় সরকার আগেও রাতের সময়ে চলাচল ও কিছু কার্যকলাপের উপর বিধিনিষেধ জারি করেছে। ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারার আওতায় শূন্যরেখার কাছে মানুষের চলাচল এবং চোরাচালানের মতো কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে আগের এই রাতের বিধিনিষেধকে কারফিউ হিসেবে বর্ণনা না করে, নতুন করে যে কারফিউ জারির প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলা হয়েছে, সেটিকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে।
টিনসং জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় অননুমোদিত পারাপার কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই প্রশাসন, নিরাপত্তাবাহিনী এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানো হচ্ছে। কোথায় এবং কত সময়ের জন্য নতুন করে কারফিউ বা চলাচলে বিধিনিষেধ কার্যকর হবে, তা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই স্পষ্ট হবে।



