কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন মমতা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দিল্লিতে পরপর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর নতুন রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে যোগদান বা দুই দলের সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কংগ্রেস বা তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
মঙ্গলবার দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর বুধবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরপর এই দুই বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে। সূত্রের দাবি, বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ, সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিরোধী রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিয়ে হয়েছে আলোচনা।
এই আবহে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেছেন, ‘রাজনীতিতে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’ আর তার এই মন্তব্যকে ঘিরেও বেড়েছে জল্পনা।
তবে সম্ভাব্য এই সমীকরণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরেই মতভেদ দেখা দিয়েছে। কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, তৃণমূলকে সঙ্গে নেওয়া হলে গত ১৫ বছরের নানা বিতর্ক, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ও কংগ্রেসের উপর বর্তাতে পারে। সাবেক প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী এবং প্রবীণ নেতা আবদুল মান্নান প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কোনো জোট বা রাজনৈতিক সমঝোতার বিরোধিতা করেছেন।
অধীর চৌধুরী আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘এখন কে কার কাছে আসছে যাচ্ছে সেটা তারা জানে। তবে এটা তো সত্যি যে মমতা ভোটে হেরেছে বলেই আসছে। আগে তো কোনোদিন আসেনি। বাকি কোথায় মার্জার হচ্ছে, ডিমার্জার হচ্ছে আমি জানি না। আমার পার্টি যদি সিদ্ধান্ত নেয় সেটা সকলকে জানাবে।’
কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘মমতার কোন কার্যকলাপের উপর কেউই বিশ্বাস করতে পারেন না আর। তার বিশ্বাসযোগ্যতা ভারতের রাজনীতিতে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সবাই জানে, সনিয়া গান্ধীও জানে।’ তিনি আরো বলছিলেন মমতার থেকে বেশি ভরসা করা যায় ‘বামেদের ওপর’।
অন্যদিকে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার তুলনামূলক নরম অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি রাজনীতি করি মাটির উপরে দাঁড়িয়ে। আমি মনে করি, রাজনীতি সম্ভাবনাময় শিল্প। সেই সম্ভাবনাময় শিল্প কখন কোন দিকে গতি নেবে, তা আগামিদিনে বা আগামী কিছু সময়ের পর দেখতে পাবেন। অগ্রিম কোনো বিষয়ের উপরে রাজ্য কংগ্রেস প্রতিক্রিয়া দেবে না। শুধু এইটুকু বলতে পারি, বিজেপির অত্যাচারের বিরুদ্ধে, আরএসএসের বিচারধারার বিরুদ্ধে যিনি লাগাতার লড়াই করছেন, ভারতের সংবিধানকে বাঁচানোর লড়াই লড়ছেন, তিনি রাহুল গান্ধী। যদি কেউ রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিয়ে দলে আসেন তাকে আমরা স্বাগত জানাব। দুর্নীতিগ্রস্থ যারা, তারা কংগ্রেসে আসবেন না। তাদের জন্য আলাদা ওয়াশিং মেশিন দরকার।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কংগ্রেসে ফেরানোর প্রস্তাব প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, ‘ভিতরে কী হয়েছে, কেউ জানে না। এই বিষয়ে মন্তব্য করা উচিত নয়। তবু বলব যেহেতু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শুরু কংগ্রেস থেকে হয়েছিল, তিনি যদি আবার কংগ্রেসে ফিরে যান, তবে সেই কথাটাই সত্য হবে যে- ‘পুনর্মূষিকো ভব’ অর্থাৎ নিজের স্বরূপে ফিরবে।’
তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেননি অভিষেক বা মমতা।




