দিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের আটক নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ

ভোটাধিকার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আন্দোলন দমনে দিল্লিতে ব্যাপক ধরপাকড়ের অভিযোগ ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার রাজধানীতে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে একাধিক আন্দোলনকারী, আইনজীবী, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের আটক করা হয়। এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আটক ব্যক্তিদের
অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছে রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দফতর। তবে জাতিসংঘের এই বক্তব্যের পালটা জবাব দিয়েছে ভারত। বিষয়টিকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরের মুখপাত্র থামিন আল-খিতান শনিবার এক বিবৃতিতে বলেন, দিল্লিতে বড় আকারের বিক্ষোভের আগে ও চলাকালীন আন্দোলনকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের ব্যাপকহারে আটক করার খবর নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার যাতে সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করা হয়, তা নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মোকাবিলার ক্ষেত্রে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর পরামর্শ দিয়েছে জাতিসংঘ। বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
পালটা জবাব ভারতের
জাতিসংঘের বক্তব্যের পরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। জেনেভায় জাতিসংঘের কাছে ভারতের স্থায়ী মিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার দফতরের উদ্বেগ যথাযথ নয় এবং তা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপের শামিল।
ভারতের বক্তব্য, সংবিধানেই শান্তিপূর্ণভাবে জমায়েত হওয়ার অধিকার স্বীকৃত। দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং মুক্ত সংবাদমাধ্যম সেই অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
একই সঙ্গে জাতিসংঘের মানবাধিকার দফতরকে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে ভারত। বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে বড় আকারের বিক্ষোভ ও মানবাধিকার সংক্রান্ত ঘটনাগুলির প্রতিও একই রকম গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, দিল্লির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের জবাবে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ও আইনি ব্যবস্থার উপরেই আস্থা রাখার বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি।
কেন পথে নেমেছিলেন বিক্ষোভকারীরা?
ককরোচ জনতা পার্টি-সহ একাধিক যুব সংগঠনের মূল দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হবে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরফলে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে তাদের দাবি।
তবে ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপির দাবির সঙ্গে একমত নয় কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপি। নির্বাচন কমিশনও অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।



