স্কুল অবরোধ ঘিরে ফ্রান্সে উত্তেজনা
- রাজপথে শিক্ষার্থী ও সরকারি কর্মীরা

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, লিমোজের ভ্যালাডন উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কয়েক ডজন শিক্ষার্থী। ছবি - ফ্রান্স টেলিভিশনের সৌজন্যে
ফ্রান্সে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) আরও ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক ও কর্মীর ঘাটতি, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ, ভারী ক্লাসসূচি এবং স্কুলের অবকাঠামোগত সংকটের প্রতিবাদে চলা এই আন্দোলনের সঙ্গে আজ দেশজুড়ে সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট ও বিক্ষোভও যুক্ত হয়েছে। বিভিন্ন শহরে স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ১৬৪ জনকে আটক এবং কয়েকজন শিক্ষার্থী, পুলিশ সদস্য ও স্কুলকর্মী আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার লিল শহরে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের বাইরে আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। লিয়ঁতে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। নিস সহ আরও কয়েকটি শহরেও স্কুলের সামনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্যারিস অঞ্চলেও একাধিক স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়েছে।
আন্দোলনের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়া লকুরনু সহিংসতার নিন্দা করেছেন। তিনি বলেছেন, স্কুলের সমস্যাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুনতে হবে, তবে আগুন, আতশবাজি নিক্ষেপ বা সহিংসতার মাধ্যমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পুলিশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, কট্টর-বামপন্থি দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের নেতা জঁ-লুক মেলেনশো শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছেন। আন্দোলনকে ঘিরে সরকারের সঙ্গে এলএফআই নেতাদের এই বিরোধ ফ্রান্সের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবারের বিক্ষোভের সঙ্গে সরকারি খাতের কর্মীদের জাতীয় ধর্মঘটও যুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার কর্মীরা বেতন, কর্মপরিবেশ এবং সরকারের প্রস্তাবিত ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। দেশজুড়ে প্রায় ১৭০টি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
সরকারের ২০২৭ সালের বাজেট পরিকল্পনায় প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ইউরো সাশ্রয়ের লক্ষ্য রয়েছে। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বাজেট ও সরকারি ব্যয় নিয়ে বিরোধীদের চাপের মধ্যেই এই আন্দোলন সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
ফ্রান্সের এই শিক্ষার্থী আন্দোলন শুরু হয় ২১ সেপ্টেম্বর, প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের সাঁ-একজুপেরি উচ্চবিদ্যালয়ে। কয়েকটি শিক্ষক পদ পূরণ না হওয়াকে কেন্দ্র করে সেখানে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। এরপর তা ইল-দ্য-ফ্রঁস অঞ্চলের অন্যান্য স্কুলে ছড়িয়ে পড়ে। ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রায় ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অবরোধ বা অবরোধের চেষ্টা হয় বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়। পরে মার্সেই, লিল, লিয়ঁ, ভার ও আলপ-মারিতিমসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে।
২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে পর্যাপ্ত শিক্ষক ও কর্মী নিয়োগ, জরাজীর্ণ স্কুল সংস্কার, অতিরিক্ত ভারী ক্লাসসূচি ও অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষের চাপ কমানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া ‘পারকুরসুপ’ ঘিরে শিক্ষার্থীদের চাপ কমানো।



