আগামীর সময়

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

হরমুজ দিয়ে চলাচলে ইরানের টোল মানবে না যুক্তরাজ্য

হরমুজ দিয়ে চলাচলে ইরানের টোল মানবে না যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি

হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর ইরান যদি কোটি কোটি ডলারের ফি বা টোল আরোপের চেষ্টা করে, তা ‘সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান’ করবে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বৃহস্পতিবার এ কথা বলেছেন।

৪০টির বেশি দেশের অংশগ্রহণে এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কুপার। বৈঠক শেষে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক করিডর অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে পুনরায় খুলে দেওয়ার আহ্বান জানায়।

এর কিছুক্ষণ পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুদ্ধ শেষ হলে জাহাজ চলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে তারা। সেই প্রস্তাব অনুযায়ী, নিরাপদ সামুদ্রিক চলাচল নিশ্চিত করতে জাহাজগুলোকে প্রণালী অতিক্রমের আগে অনুমতিপত্র নিতে হবে।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস মার্চের শুরু থেকে কার্যত এই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ইতিমধ্যে অন্তত একটি জাহাজকে এই পথ পাড়ি দিতে ২০ লাখ ডলার দিতে হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টিকে কেউ কেউ তেহরান টোল বুথ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সংকট মোকাবিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর কুপার বলেছেন, ইরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে জিম্মি করে রাখার সুযোগ দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি।

‘যেসব জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করতে চায়, তাদের ওপর টোল আরোপের যেকোনো চেষ্টা দেশগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করতে পারে’, যোগ করেন তিনি।

যদিও ইরানের প্রস্তাবে ফি বা টোলের কথা সরাসরি বলা হয়নি। দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি রুশ বার্তা সংস্থা স্পুটনিককে বলেছেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রণালি দিয়ে যাওয়া সব জাহাজকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগাম ইরানি ও ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিতে হবে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালী দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বন্ধই থাকবে।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, ওই অঞ্চলে যদি আরও আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তাহলে আগ্রাসী পক্ষ ও তাদের সমর্থকদের জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে না।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করত।

    শেয়ার করুন: