ব্রিটেনে ফিরে প্রথম যৌথ সফরে হ্যারি-মেগান
- রাজপরিবার ছেড়ে মানুষের কাছে

প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল
নয় বছর আগের সেই শহর। সেদিন বাগদানের আনন্দ নিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে জনসমক্ষে এসেছিলেন হ্যারি ও মেগান। বৃহস্পতিবার আবার ফিরলেন নটিংহামে। এবার নেই রাজপ্রাসাদের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব। তবু শুভাকাঙ্ক্ষীদের আলিঙ্গন, হাসিমুখে ছবি তোলা আর শিশুদের সঙ্গে আড্ডায় ফিরে এল পুরোনো দৃশ্য।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রয়টার্স, দ্য স্ট্যান্ডার্ড ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্রিটেনে বসবাস করতে ফেরার পর এই প্রথম যৌথ প্রকাশ্য কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। প্রায় একশ মানুষ নটিংহামের সেন্ট অ্যানস এলাকায় তাঁদের স্বাগত জানান।
সকাল সাড়ে দশটার কিছু পর কমিউনিটি রেকর্ডিং স্টুডিওতে পৌঁছান তারা। গাড়ি থেকে নেমেই এগিয়ে যান অপেক্ষমাণ মানুষের দিকে। হাত মেলান, আলিঙ্গন করেন, তোলেন ছবি। এক নারীকে মেগান বলেছেন, ‘ফিরে এসে দারুণ লাগছে।’ রোদেলা আবহাওয়া দেখে তাঁর মন্তব্য, ‘আজ আবহাওয়াটা চমৎকার। আমাদের ভাগ্য ভালো।’
একুশ বছরের এমিলি ডেভিস মেগানকে হলুদ ফুল ও একটি কার্ড দেন। পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘তার সঙ্গে দেখা করা আমার জন্য সম্মানের।’ মেগান কার্ডটি ভাঁজ করে নিজের পকেটে রাখেন। আরেকজন ২০১৭ সালের সফরের ছবি দেখালে মেগান বলেছেন, ‘এটি সত্যিই বিশেষ কিছু।’
প্রথম গন্তব্যের প্রতিষ্ঠানটি দরিদ্রতা, সহিংসতা ও অনিশ্চয়তায় বেড়ে ওঠা তরুণদের গান, অভিনয় এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ দেয়। হ্যারি দেখা করেছেন সংগীতশিল্পী ও তরুণদের পরামর্শদাতা জাহ ডিগার সঙ্গে। মেগান অংশ নেন কিশোরীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো ও হাতে অলংকার তৈরির কর্মশালায়। তাঁরা অভিনয়ের একটি কর্মশালাও দেখেন।
গত বছর তরুণদের সহায়তায় ১১ লাখ পাউন্ড অনুদান ঘোষণা করেছিলেন হ্যারি। সেই অর্থে এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও সহায়তা পাচ্ছে। দিনের পরবর্তী কর্মসূচিতে ছিল খাদ্যসংকটে থাকা পরিবারগুলোর জন্য কাজ করা হিম্মাহ কেন্দ্রে যাওয়া। সেখানে খাবার তৈরি ও সহায়তার প্যাকেট গোছানোর আয়োজন ছিল। গ্রেনফেল অগ্নিকাণ্ডের পর গড়ে ওঠা রান্নাঘরের নারীদের সঙ্গেও মেগানের দেখা করার কথা। ওই উদ্যোগের রান্নার বই থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ আগেই দান করেছিলেন তিনি।
শেষ গন্তব্য এপিক পার্টনার্স। খেলাধুলা ও পরামর্শের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের সহায়তা করে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২০ সালে আনুষ্ঠানিক রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়েন হ্যারি-মেগান। দুই সন্তানকে নিয়ে গত আগস্টে ব্রিটেনে ফেরেন। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর এই প্রথম ব্রিটেনে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে এলেন মেগান। এর আগে হ্যারি একাই কয়েকটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ছিল শিশুদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। তবে এই সফর কোনো সরকারি রাজকীয় দায়িত্ব নয়। রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদিত চিঠিতে তাঁদের ব্যক্তিগত নাগরিক হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। সরকারি পুলিশি সুরক্ষার প্রশ্ন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। দ্য টেলিগ্রাফের সূত্রের দাবি, ভবিষ্যতে মেগানের এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি সীমিতই থাকবে।
নয় বছর আগের শহরে তাই ফিরে এলেন একই জুটি, কিন্তু ভিন্ন পরিচয়ে। রাজপ্রাসাদের কর্মসূচি নয়, নিজেদের বেছে নেওয়া মানুষের পাশেই এবার তাঁদের দিনের শুরু।



