রাশিয়াকে ঠেকাতে পারমাণবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পথে লিথুয়ানিয়া

এই সাংবিধানিক পরিবর্তন কার্যকর করতে পার্লামেন্টে দুটি পৃথক ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে- রয়টার্স
রাশিয়াকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে সংবিধান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র ও বিদেশি সামরিক ঘাঁটি নিষিদ্ধ করার বিধান তুলে নেওয়ার পরিকল্পনায় একমত হয়েছে লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্টের রাজনৈতিক দলগুলো। বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট।
এই সাংবিধানিক পরিবর্তন কার্যকর করতে পার্লামেন্টে দুটি পৃথক ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে। এটি অনুমোদিত হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে স্বাধীনতা লাভের পর তিন দশকেরও বেশি আগে সংবিধানে যুক্ত করা নিষেধাজ্ঞাগুলো বাতিল হবে।
পার্লামেন্টের বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা সাংবাদিকদের বললেন, ‘ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।’
তিনি বললেন, ‘আমাদের সংবিধান এমন একসময়ে লেখা হয়েছিল, যখন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল।’
ন্যাটোর সদস্য লিথুয়ানিয়ার একদিকে রাশিয়ার কালিনিনগ্রাদ অঞ্চল এবং অন্যদিকে মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশের সঙ্গে স্থলসীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে তিন গুণ।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে লিথুয়ানিয়া সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন করছে, সীমান্তে প্রতিরক্ষা অবকাঠামো জোরদার করছে এবং ২০২৭ সালে স্থায়ীভাবে মোতায়েন হতে যাওয়া জার্মানির যুদ্ধ-প্রস্তুত ব্রিগেডের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করছে।
এই ঘোষণা এমন একসময়ে এলো, যখন চার মাস আগে ন্যাটোর আরেক সদস্য ফিনল্যান্ডও পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকারী কয়েক দশকের পুরনো আইন বাতিলের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ২০২৩ সালে ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার পর ফিনল্যান্ড ওই সিদ্ধান্ত নেয়, যা দেশটির নিরাপত্তা নীতিতে একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।
ভিলনিয়াসভিত্তিক জিওপলিটিকস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ সেন্টারের প্রধান লিনাস কোজালা রয়টার্সকে বলেছেন, ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর লিথুয়ানিয়ার সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা সম্ভবত সবচেয়ে কঠোর। ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার আগেই এ বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি বললেন, ‘এ বিষয়ে বিস্তৃত ঐকমত্য রয়েছে যে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ মিত্র দেশগুলোর পারমাণবিক অস্ত্র এখন প্রতিরোধ কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘তাই প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের পথে কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।’
প্রেসিডেন্ট নাউসেদা বলেছেন, আপাতত লিথুয়ানিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্র সংরক্ষণের কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে সংবিধান থেকে এ বিধান তুলে দেওয়া হলে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বদলে গেলে দেশটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারবে।
তিনি আরও বলেছেন, লিথুয়ানিয়া পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সদস্য হিসেবেই থাকবে।
পার্লামেন্টের স্পিকার ইউওজাস ওলেকাস জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ সংবিধান সংশোধনী পাস হতে পারে।



