আগামীর সময়

ট্রাম্পের কটাক্ষে স্টারমারের পাশে ব্রিটিশ এমপি-কূটনীতিকরা

ট্রাম্পের কটাক্ষে স্টারমারের পাশে ব্রিটিশ এমপি-কূটনীতিকরা

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য কটাক্ষে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের সমালোচনার মুখে স্টারমারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একাধিক এমপি ও কূটনীতিক।

হোয়াইট হাউসে ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে স্টারমারকে নকল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্য সাম্প্রতিক সময়ের ইরান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রের মতো আচরণ করেনি। এমনকি সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও স্টারমারকে বিদ্রূপ করেন তিনি।

এর আগে ইরানে সম্ভাব্য হামলার সময় মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সর্বশেষ বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, সংঘাতের সময় তিনি যুক্তরাজ্যকে দুটি বিমানবাহী রণতরির একটি পাঠাতে বলেছিলেন। এরপর স্টারমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে টিমের সঙ্গে পরামর্শ করেন বলে তাকে উপহাস করেন।

তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ট্রাম্পের এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ করা হয়নি। যুক্তরাজ্যও এ ধরনের কোনো প্রস্তাব দেয়নি।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রকাশ্য জবাব না দিয়ে স্টারমার সংযত অবস্থান নিয়েছেন। তবে এতে আগে থেকেই টানাপড়েনে থাকা দুই দেশের সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

‘এই পরিস্থিতিতে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে পারেন স্টারমার’, মত বিশ্লেষকদের।

এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের ভাষায়, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মূলত উপেক্ষা’ করে স্টারমার ঠিক কাজই করেছেন। তার ভাষ্য, সম্পর্কটি পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরবে, এমনটা এখন কল্পনা করা কঠিন।

‘যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন রাজপরিবারের সফর, বিশেষ করে রাজা তৃতীয় চার্লসের সম্ভাব্য সফর এবং শিগগিরই প্রিন্স উইলিয়াম ও প্রিন্সেস কেটের যুক্তরাষ্ট্র সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সুযোগ হয়ে উঠতে পারে’, মনে করেন সাবেক এক কূটনীতিক।

‘ইরান সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে না পড়ার সিদ্ধান্ত স্টারমারের জন্য সঠিক ছিল। তবে এতে ট্রাম্পের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে’, স্টারমারের সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দেন যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের সাবেক রাষ্ট্রদূত কিম ড্যারক।

এদিকে, লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের প্রতি সমর্থন জোরালো হয়েছে। লেবার এমপি ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান এমিলি থর্নবেরি বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক নীতির সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়ার ক্ষেত্রে স্টারমারের অবস্থান সঠিক।

ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিতেও ট্রাম্পের মন্তব্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রিফর্ম ইউকের নেতা রবার্ট জেনরিকের ভাষ্য, ‘স্টারমার-ট্রাম্প সম্পর্ক বড় ধাক্কা খেলেও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।’

এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরাসরি পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেননি কিয়ার স্টারমার। পার্লামেন্টে ট্রাম্পের মন্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, তিনি কেবল যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থেই মনোযোগী। ‘আমি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। দেশের জাতীয় স্বার্থই আমার অগ্রাধিকার। সাম্প্রতিক সময়ের পরিস্থিতিতেও আমি সেই অবস্থানেই অটল থাকব’, জানালেন স্টারমার।

    শেয়ার করুন: