জনসংখ্যা কেন ১ কোটিতে আটকে রাখতে চাইছে সুইজারল্যান্ড

নো-ক্যাম্পেইনের পোস্টারে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিংয়ের ছবি দিয়ে ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
কোনো দেশের জনসংখ্যা কি আইন করে নির্দিষ্ট একটি সীমায় বেঁধে রাখা সম্ভব? এই প্রশ্নের জবাব খুঁজতেই রবিবার গণভোটে যাচ্ছে সুইজারল্যান্ড। দেশটির নাগরিকরা জনসংখ্যা ১ কোটিতে সীমাবদ্ধ করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে মত দেবেন।
‘টেকসই উন্নয়ন উদ্যোগ’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে ডানপন্থী সুইস পিপলস পার্টির সমর্থিত এ প্রস্তাবকে। দলটির দাবি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা গেলে আবাসন, সরকারি সেবাসহ চাপ কমবে পরিবেশের ওপর।
তবে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সুইস সরকার, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। তাদের মতে, এটি কার্যকর হলে হাসপাতালসহ প্রয়োজনীয় কর্মী সংকটে পড়বে হোটেল খাত। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সম্পর্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সুইজারল্যান্ডের।
২০০২ সালে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা ছিল ৭৩ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে পৌঁছেছে ৯১ লাখে। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশই বিদেশি নাগরিক।
দেশটির অনেক নাগরিক অতিরিক্ত ভিড়, ব্যয়বহুল আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। সর্বশেষ জনমত জরিপ বলছে, ভোটের ফল হতে পারে খুবই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একটি জরিপে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করেছেন ৫২ শতাংশ ভোটার। আর সমর্থন জানিয়েছেন ৪৫ শতাংশ। এখনো সিদ্ধান্ত নেননি অনেক ভোটার।
বার্ন ক্যান্টনের পার্লামেন্ট সদস্য এবং সুইস পিপলস পার্টির নেতা নিলস ফিখটার মনে করেন, নিয়ন্ত্রণহীন অভিবাসনের কারণে স্বকীয়তা হারাচ্ছে সুইজারল্যান্ড। তার ভাষ্য, আবাসন সংকট, যানজট, বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত চাপ এবং সামাজিক সেবার ওপর বাড়তি চাপের জন্য অভিবাসন দায়ী।
অন্যদিকে বার্ন সিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা হেলিন জেনিস এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার মতে, বাড়িভাড়া, স্বাস্থ্যবিমার ব্যয় বা অবকাঠামোগত সংকটের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করা সমস্যার সমাধান নয়; বরং বিভাজন তৈরি করে সমাজে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০৫০ সালের আগে ১ কোটির বেশি হতে পারবে না সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা। জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে।
এসব পদক্ষেপের মধ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমানো এবং বিদেশি কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সুইজারল্যান্ডে আনার সুযোগ সীমিত করার মতো বিষয় থাকতে পারে।
এ ছাড়া জনসংখ্যা ১ কোটিতে পৌঁছালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মানুষের অবাধ চলাচলসংক্রান্ত চুক্তিসহ বাতিল করতে হতে পারে কিছু আন্তর্জাতিক চুক্তি।
এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সুইজারল্যান্ডের ব্যবসায়ী সংগঠন ইকোনমিসুইস। সংগঠনটির প্রধান অর্থনীতিবিদ রুডলফ মিনশ বলেছেন, প্রস্তাবটি পাস হলে জটিল হয়ে উঠতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্ক।
তার ভাষ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার। তাই প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে স্থিতিশীল ও সুস্পষ্ট সম্পর্ক বজায় রাখা সুইজারল্যান্ডের স্বার্থেই প্রয়োজন।
সূত্র: বিবিসি





