Agamir Somoy E-Paper
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
রুবেলের উদ্যোগে ১৩০০ মানুষের কর্মসংস্থান
রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় ইউরোপ

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভের ভেতরের চিত্র

  • পাঁচ দিনে ৫ হাজারের বেশি আটক
হাসান ইলিয়াছ, প্যারিস থেকে
agamir somoy
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৪২
ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভের ভেতরের চিত্র

ফ্রান্সের উচ্চবিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী আন্দোলন এখন আর কেবল স্কুল অবরোধের কর্মসূচি নয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠ থেকে শুরু হওয়া ক্ষোভ দুই সপ্তাহের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং শিক্ষার্থীদের মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক আটক। শুক্রবার ২ অক্টোবর পর্যন্ত সোমবার থেকে পাঁচ দিনে ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শুধু শুক্রবারই আটক করা হয়েছে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে।

আন্দোলনের ব্যাপ্তি বোঝাতে শুক্রবারের সরকারি হিসাবই যথেষ্ট। ওই দিন ৭৩৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনো না কোনোভাবে আন্দোলনের কারণে প্রভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০০টি উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ ছিল। তবে ৭৩৫টি প্রতিষ্ঠানেই সহিংসতা হয়েছে এমন নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ১৫৮টি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে নগর সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আন্দোলনের বড় অংশ স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ হলেও একটি অংশে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা সংকটে রূপ নিয়েছে।

শুরুটা যেখানে

আন্দোলনের প্রথম বড় কেন্দ্র ছিল প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্ব উপকণ্ঠের ক্রেতেইয়ের সাঁ-এক্সুপেরি উচ্চবিদ্যালয়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সেখানে স্কুল অবরোধ দিয়ে শুরু হওয়া কর্মসূচি পরে সেন সাঁ-দেনি এবং প্যারিস অঞ্চলের অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর লিয়ঁ, মার্সেই, তুলুজ, নঁত, স্ট্রাসবুর্গ, লিলসহ দেশের বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীরা এতে যুক্ত হয়।

প্রথম দিকে আন্দোলনের মূল বিষয় ছিল শিক্ষা ব্যবস্থার দৈনন্দিন সংকট। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও দ্রুত বিকল্প শিক্ষক পাওয়া যায় না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও স্কুল ভবনের অবস্থা খারাপ, কোথাও পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নেই। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দীর্ঘ ক্লাস সূচি, অতিরিক্ত ফাঁকা সময়, সপ্তাহে ছয় দিনের মতো ব্যস্ত সূচি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির জন্য ব্যবহৃত অনলাইন ব্যবস্থার চাপের কথাও বলছে।

শিক্ষক সংকটের অভিযোগের পেছনেও সরকারি তথ্য রয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ফ্রান্সের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষায় প্রায় ১০ শতাংশ নির্ধারিত পাঠঘণ্টা নেওয়া হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর একটি অংশের কারণ ছিল বিকল্প শিক্ষক না পাওয়া। ফলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগটি কেবল সাম্প্রতিক বিক্ষোভের বক্তব্য নয়, এর পেছনে আগের শিক্ষাবর্ষের তথ্যও রয়েছে।

ক্ষোভের তালিকা এক নয়

এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো, সব স্কুলে শিক্ষার্থীদের দাবি এক নয়। কোথাও শিক্ষক সংকট প্রধান বিষয়, কোথাও ভবনের অবস্থা, কোথাও শ্রেণিকক্ষের ভিড়, আবার কোথাও ক্লাস সূচি ও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির চাপ সামনে এসেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন স্কুলের নামে আলাদা আলাদা দাবি ছড়িয়েছে। পুলিশি গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আন্দোলনের আগে ও চলাকালে বিভিন্ন পোস্টার ও আহ্বানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এখানেই আন্দোলনের চরিত্র নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সরকার বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন লা ফ্রঁস ইনসুমিজ আন্দোলনকে বড় করতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু প্যারিস পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের যে নথি নিয়ে এই দাবি সামনে এসেছে, সেটি মূলত সেন সাঁ-দেনি এলাকার আন্দোলন নিয়ে তৈরি এবং দেশের পুরো আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করে না। ওই নথিতে ২৭টি কর্মসূচির মধ্যে ছয়টিতে রাজনৈতিক কর্মী, শিক্ষার্থী সংগঠনের সদস্য বা বামপন্থী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই নথিতে আন্দোলনকে বিচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রের বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।

অতএব রাজনৈতিক সংগঠনের উপস্থিতি নিয়ে সরকারি ও গোয়েন্দা পর্যায়ের তথ্য থাকলেও পুরো আন্দোলনকে কেবল রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করার মতো একক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

পাঁচ দিনে ৫ হাজারের বেশি আটক

আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সংখ্যা এখন আটককে ঘিরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের হিসাবে, শুক্রবার ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আটক হয়েছিল ১ হাজার ৯৫৪ জন। সব মিলিয়ে সোমবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত আটক ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া হিসাবে আটক ব্যক্তিদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তাঁদের বড় একটি অংশ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছেন, কোনো স্কুলের কাছে আটক হওয়া মানেই ওই স্কুলের শিক্ষার্থী হওয়া নয়।

ইল দ্য ফ্রঁস অঞ্চলের হিসাবেও একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে ৮২৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। প্যারিসে ১১৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৯৮ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুক্রবার শুধু ইল দ্য ফ্রঁসেই ২৫৫ জনকে আটক করা হয়।

তবে আটক মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। ফরাসি আইনে পুলিশ হেফাজত তদন্তের একটি প্রাথমিক ধাপ। ইতোমধ্যে কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ককে সতর্ক করা হয়েছে, কিছুজনকে নাগরিক দায়িত্ব ও পুনর্বাসনধর্মী কর্মসূচিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং কয়েকটি ঘটনায় পর্যাপ্ত অপরাধের প্রমাণ না থাকায় মামলা না চালানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতা, সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলা, সম্পত্তির ক্ষতি ও অগ্নিসংযোগের মতো অভিযোগে কিছু মামলা আদালত পর্যন্তও গড়িয়েছে।

কোথায় সহিংসতা হয়েছে

বৃহস্পতিবার ১ অক্টোবর আন্দোলনের মাত্রা সবচেয়ে বেশি বাড়ে। সেদিন এক হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান আন্দোলনের কোনো না কোনো কর্মসূচির আওতায় ছিল। ২২২টি উচ্চবিদ্যালয়ে সরাসরি অবরোধের তথ্য দেওয়া হয়। একই দিন প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে আটক করা হয়।

এর পরদিনও বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ হয়। স্ট্রাসবুর্গে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। মার্সেইয়ে পুলিশের দিকে আতশবাজি ছোড়ার ঘটনা ঘটে। তুলুজে স্কুলের সামনে আগুন জ্বালানো হয়। প্যারিসের দুটি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। নঁতের নেলসন ম্যান্ডেলা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রবেশপথের একটি অংশ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বেলফোরে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়। শুক্রবার সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করা এক পুলিশ কর্মকর্তাকে একদল যুবক ঘিরে মারধর করে। তিনি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কাজে ফিরে গেছেন। ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করার কথা জানিয়েছেন প্রসিকিউটর। তবে ওই ঘটনায় আটক ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে পরে কোনো অভিযোগ ছাড়াই পুলিশ হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশও আহত, পুলিশের আচরণ নিয়েও তদন্ত

আন্দোলনের সবচেয়ে বিতর্কিত দিকগুলোর একটি এখন পুলিশের বলপ্রয়োগ। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওর সবগুলোর ঘটনা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশের ব্যবহৃত বলপ্রয়োগ নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে।

জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র আগাত ফুকো ৩ অক্টোবর জানিয়েছেন, পুলিশের আচরণ নিয়ে পাঁচটি তদন্ত খোলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের উদ্দেশ্য হলো সংশ্লিষ্ট ঘটনায় বলপ্রয়োগ প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক ছিল কি না, তা যাচাই করা। অর্থাৎ তদন্ত খোলা হয়েছে মানেই পুলিশি অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন নয়।

অন্যদিকে পুলিশ ও জেন্ডারম বাহিনীর সদস্যদের আহত হওয়ার সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। ৩ অক্টোবর জাতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আন্দোলন শুরুর পর ৬০০ জনের বেশি পুলিশ ও জেন্ডারম আহত হয়েছেন। ফলে সংঘর্ষের দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতিই এখন সরকারি ও তদন্তকারী সংস্থাগুলোর নজরে রয়েছে।

বেলফোরের ভিডিও ঘিরে বিভ্রান্তি

বেলফোরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওর একটি অংশ দেখে ওই পুলিশ কর্মকর্তা একজন কিশোরকে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে প্রসিকিউটর জানান, পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কিশোরটি পুলিশের কাছ থেকে পালানোর সময় পানিতে যায় এবং ধস্তাধস্তির সময় দুজনই পানিতে পড়ে যায়। পরে পুলিশ কর্মকর্তা তাকে তীরে নিয়ে এসে আটক করেন। ভিডিওতে পানির গভীরতা ও অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় শুধু দৃশ্য দেখে ঘটনাটির সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

এই ঘটনাটি দেখিয়েছে, চলমান আন্দোলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসম্পূর্ণ ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেগুলো থেকেই অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী দাবি তৈরি হচ্ছে।

সরকারের হাতে এখন দুটি চাপ

সরকারের সামনে একদিকে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত দাবি, অন্যদিকে সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন। শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শুক্রবার শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলোচনায় শিক্ষক সংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি, স্কুল ভবনের অবস্থা, শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী সংখ্যা, ক্লাস সূচি এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের বিষয় উঠে আসে।

বৈঠকের পর মন্ত্রী ঘোষণা দেন, অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বিকল্প শিক্ষক দিয়ে পূরণের জন্য পরের সপ্তাহ থেকেই নতুন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা হবে। স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ক্লাস সূচি নিয়েও কাজ করার কথা বলেন তিনি।

কিন্তু শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো এতে সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্য, তারা এখনো পর্যাপ্ত বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে পাচ্ছে না। তাই স্কুল অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। মঙ্গলবার ৬ অক্টোবর নতুন জাতীয় কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতের একাধিক শিক্ষক ও শ্রমিক সংগঠনও ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

বাজেটের অঙ্কেও আছে বিতর্ক

আন্দোলনের সময়ে ২০২৭ সালের শিক্ষা বাজেটও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সরকারের প্রস্তাবে জাতীয় শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো বাড়িয়ে প্রায় ৬৪ বিলিয়ন ইউরো করার কথা বলা হয়েছে। সরকার বলছে, জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষক পদে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

প্রস্তাবে ৩ হাজার ২৫৭টি অতিরিক্ত পদ তৈরির কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪১টি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পর্যায়ের পদ। একই সঙ্গে স্থায়ী শিক্ষক পদ কমানোর প্রস্তাব রয়েছে ১ হাজার ৫৮৮টি, যার মধ্যে সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ১ হাজার ২৫০টি। সরকারের ব্যাখ্যা, ২০২৭ সালে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কমবে, তাই জনসংখ্যার পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিয়ে পদ পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, শিক্ষার্থী কমলেও শ্রেণিকক্ষের বাস্তব চাপ এবং শিক্ষক ঘাটতি সব এলাকায় সমানভাবে কমছে না। ফলে বাজেটের মোট অঙ্ক বাড়ছে কি না, তার চেয়ে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মী কতটা পাওয়া যাচ্ছে, সেটিই তাদের কাছে বড় প্রশ্ন।

ক্ষয়ক্ষতির হিসাবও বাড়ছে

বিক্ষোভের সময় স্কুল ভবন, প্রবেশপথ ও আশপাশের স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ইল দ্য ফ্রঁস অঞ্চলে ক্ষতির প্রাথমিক হিসাব প্রায় ৭ মিলিয়ন ইউরো। গ্রঁদ এস্ত অঞ্চলে প্রায় ১ মিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির হিসাব দেওয়া হয়েছে। ওভের্ন রোন আল্প অঞ্চলের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষ ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির একটি বিস্তৃত হিসাব দিয়েছে, যার মধ্যে স্কুলের আশপাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহনের ক্ষতিও রয়েছে। এগুলো প্রাথমিক আঞ্চলিক হিসাব, চূড়ান্ত জাতীয় ক্ষতির হিসাব নয়।

সরকারের পক্ষ থেকে অভিভাবকদেরও সতর্ক করা হয়েছে। কয়েকটি অঞ্চলের প্রিফেক্ট অপ্রাপ্তবয়স্কদের আটক হওয়ার পর তাঁদের অভিভাবকদের চিঠি দিয়েছেন। সেখানে আইন ভঙ্গ ও সম্পত্তির ক্ষতির ঘটনায় সম্ভাব্য বিচারিক ও দেওয়ানি দায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলন এখন কোন পর্যায়ে

ফ্রান্সের বর্তমান পরিস্থিতিকে একক কোনো ব্যাখ্যায় আটকে রাখা কঠিন। একদিকে শিক্ষক সংকট, শ্রেণিকক্ষের চাপ, অবকাঠামো এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হওয়া বাস্তব অসন্তোষ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু এলাকায় অবরোধের সঙ্গে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, পুলিশের ওপর হামলা ও সম্পত্তি ধ্বংস যুক্ত হয়েছে। ফলে একই আন্দোলনের ভেতরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ পাশাপাশি অবস্থান করছে।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগও এখন আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্যারিস পুলিশের গোয়েন্দা নথি নিজেই পুরো ফ্রান্সের আন্দোলন নিয়ে নয়, নির্দিষ্টভাবে সেন সাঁ-দেনি এলাকার কর্মসূচি নিয়ে তৈরি। সেখানে রাজনৈতিক ও সংগঠিত কর্মীদের উপস্থিতির কথা যেমন আছে, তেমনি আন্দোলনের বিচ্ছিন্ন ও স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্রের কথাও রয়েছে। ফলে আন্দোলনের সামাজিক কারণ এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দুটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।

এখন নজর ৬ অক্টোবরের কর্মসূচিতে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো বলছে, সরকারের সঙ্গে বৈঠকে তারা পর্যাপ্ত বাস্তব পদক্ষেপের নিশ্চয়তা পায়নি। সরকার শিক্ষক বদলি ও স্কুল ব্যবস্থাপনায় কিছু তাৎক্ষণিক উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। একই সময়ে পুলিশি আচরণ নিয়ে পাঁচটি তদন্ত এবং বিক্ষোভকারীদের সহিংসতার ঘটনায় একাধিক ফৌজদারি তদন্ত চলছে।

অর্থাৎ ফ্রান্সের এই আন্দোলনের পরবর্তী অধ্যায় নির্ভর করছে দুটি সমান্তরাল প্রশ্নের ওপর: শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের শিক্ষা সংক্রান্ত দাবির কতটা বাস্তব সমাধান আসে এবং বিক্ষোভের নামে সংঘটিত সহিংসতা ও সম্পত্তি ধ্বংসের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া কতটা এগোয়। আপাতত ৫ হাজারের বেশি আটক এবং শত শত আহতের পরও আন্দোলন থামেনি। বরং আগামী ৬ অক্টোবরের কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ফ্রান্সের শিক্ষার্থী বিক্ষোভ
    আগামীর সময় ইপেপার
    শেয়ার করুন:
    বন্ধ হচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

    বন্ধ হচ্ছে পদ্মা ব্যাংক

    ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি নিয়ে আলোচনা, যাচাইয়ে কী মিলছে

    ট্রাম্পের সঙ্গে তারেক রহমানের ছবি নিয়ে আলোচনা, যাচাইয়ে কী মিলছে

    ধনীর পাঙাশ গরিবের পাতে দিলেন যে বিজ্ঞানী

    ধনীর পাঙাশ গরিবের পাতে দিলেন যে বিজ্ঞানী

    সবাইকে জামিন দিক, আমাদের সেফ কাস্টডিতে রাখুক

    সবাইকে জামিন দিক, আমাদের সেফ কাস্টডিতে রাখুক

    ইয়েতির হাত!

    ইয়েতির হাত!

    কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে যুবককে মারধর

    কোটালীপাড়ায় শিক্ষিকাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগে যুবককে মারধর

    তৌফিক খালিদী মোহ-নির্মোহ দ্বন্দ্বের যবনিকা

    তৌফিক খালিদী মোহ-নির্মোহ দ্বন্দ্বের যবনিকা

    ‘আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে’, সৌদি থেকে রেহেনার আকুতি

    ‘আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে’, সৌদি থেকে রেহেনার আকুতি

    ‘সোনার ডিমপাড়া হাঁস’ বিদেশিদের পাতে!

    ‘সোনার ডিমপাড়া হাঁস’ বিদেশিদের পাতে!

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার অভিযোগে বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

    মিরপুরের ফুটপাতে ফিরেছে স্বস্তি, হকাররা এখন কোথায়

    মিরপুরের ফুটপাতে ফিরেছে স্বস্তি, হকাররা এখন কোথায়

    মোবাইলে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

    মোবাইলে ডেকে নিয়ে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

    দেবীগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, স্কুলশিক্ষক নিহত

    দেবীগঞ্জে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ, স্কুলশিক্ষক নিহত

    ‘শেখ হাসিনাকে ভারতে নামার অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো’

    ‘শেখ হাসিনাকে ভারতে নামার অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো’

    রামপাল কি সত্যিই গ্রিডে ১,৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে?

    রামপাল কি সত্যিই গ্রিডে ১,৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দিচ্ছে?