রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় যুক্তরাজ্যে সরকারি ঋণের সুদ কয়েক দশকের সর্বোচ্চে

সংগৃহীত ছবি
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে চাপ বাড়ার মধ্যেই মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। একই সঙ্গে তেলের দামও রয়েছে উচ্চপর্যায়ে।
মঙ্গলবার সকালের লেনদেনে যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ঋণের সুদহার বেড়ে ৫ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০০৮ সালের জুলাইয়ের পর এটি সর্বোচ্চ। ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৫ দশমিক ৮ শতাংশের ওপরে ওঠে, যা ১৯৯৮ সালের মে মাসের পর দেখা যায়নি। আর ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার বেড়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা ১৯৯৮ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ।
বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং সরকারি অর্থব্যবস্থা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সরকারি ঋণবাজারে।
ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় ঋণের খরচ বেড়েছে বড় অর্থনীতির আরও কয়েকটি দেশেও। তেলের দাম বেশি থাকলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদহার বাড়ানোর চাপ তৈরি হয়, যা শেষ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় সরকারি ঋণের খরচও।
স্টারমারকে ঘিরে সর্বশেষ রাজনৈতিক চাপ শুরু হওয়ার আগেই যুক্তরাজ্যের ঋণের সুদহার বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময়কার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। তেল ও গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় জ্বালানির দামের ধাক্কায় যুক্তরাজ্যকে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সরকারি ঋণের সুদহার বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনা চাপে পড়ে। ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি অর্থ খরচ হলে জনসেবা, অবকাঠামো বিনিয়োগ, করছাড় বা অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে কমে যেতে পারে ব্যয়ের সুযোগ।
চাপের প্রভাব দেখা গেছে মুদ্রা ও শেয়ারবাজারেও। পাউন্ডের দর কমে ১ দশমিক ৩৫২ ডলারে নেমেছে, যা এপ্রিলের শেষ দিকের পর সর্বনিম্ন। যুক্তরাজ্যের প্রধান শেয়ারসূচক এফটিএসই ১০০ সকালেই শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে মার্চের শেষ দিকের পর নেমে যায় সর্বনিম্ন অবস্থানে।






