Agamir Somoy E-Paper
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্বপ্নের ফেরিওয়ালা সামাদ
শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
আগামীর সময়
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • বিচিত্রা
  • চাকরি
  • ছবি
  • সাহিত্য
  • বিবিধ
  • ধর্ম
  • প্রবাস
  • ফ্যাক্টচেক
  • সোশ্যাল মিডিয়া
  • ধন্যবাদ
  • বিশেষ সংখ্যা
  • সর্বজনের গল্প
  • বিশেষ লেখা
EN
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • চট্টগ্রাম
  • সারা দেশ
  • বিদেশ
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • ক্লাব
  • ইপেপার
  • EN
লোড হচ্ছে…

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলিগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

[email protected]

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

advertiseadvertise
আগামীর সময় ইউরোপ

৩ ট্রিলিয়নের দরজায় ব্রিটেনের ঋণ, করের জোয়ারে শেষ মুহূর্তে স্বস্তি

ইরফান রহমান, লন্ডন থেকে
agamir somoy
প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৩৫
৩ ট্রিলিয়নের দরজায় ব্রিটেনের ঋণ, করের জোয়ারে শেষ মুহূর্তে স্বস্তি

গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বার সরকারি ঋণগ্রহণ বা বাজেট ঘাটতি বেড়েছে ৭০ কোটি পাউন্ড।

আর মাত্র ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড। সেটুকু যোগ হলেই ব্রিটেনের জাতীয় ঋণের অঙ্ক প্রথম বার পৌঁছে যেত ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ডে, অর্থাৎ ৩ হাজার বিলিয়নে। আপাতত সেই মাইলফলক ছোঁয়া হল না। জুলাইয়ে ব্যক্তিগত আয়কর জমার রেকর্ডে সরকারি কোষাগারে অর্থের প্রবাহ বাড়ায় মাসের শেষে ব্রিটেনের নিট সরকারি ঋণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৯৮৪৯ ট্রিলিয়ন পাউন্ডে। কিন্তু স্বস্তির ছবির পাশেই রয়েছে সতর্কবার্তা, কর আদায় বাড়লেও সরকারি ব্যয় আরও দ্রুত বেড়েছে, ফলে জুলাইয়েও নতুন করে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ধার করতে হয়েছে সরকারকে।

ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ওএনএস শুক্রবার জুলাইয়ের সরকারি অর্থের হিসাব প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বার সরকারি ঋণগ্রহণ বা বাজেট ঘাটতি বেড়েছে ৭০ কোটি পাউন্ড। আরও তাৎপর্যপূর্ণ, স্বাধীন বাজেট পর্যবেক্ষক অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি (ওবিআর) জুলাইয়ে ৫০ কোটি পাউন্ড উদ্বৃত্ত হবে বলে ধরে নিয়েছিল। বাস্তবে হয়েছে উল্টো, ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতি। অর্থাৎ সরকারি পূর্বাভাসের তুলনায় অবস্থান ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড খারাপ।

তবু ৩ ট্রিলিয়নের সীমা এড়িয়ে যাওয়ার পেছনে বড় স্বস্তি এসেছে কর আদায় থেকে। জুলাইয়ে নিজে হিসাব করে আয়কর জমা দেওয়া করদাতাদের কাছ থেকে সরকার পেয়েছে ১৭ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড। গত বছরের একই মাসের তুলনায় তা ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন বেশি এবং ১৯৯৯ সালে মাসভিত্তিক হিসাব শুরু হওয়ার পর কোনও জুলাইয়ে এটিই সর্বোচ্চ, যদিও মূল্যস্ফীতি হিসাব করে এই রেকর্ড সমন্বয় করা হয়নি। ওএনএস অবশ্য সতর্ক করেছে, কিছু করদাতা জুলাইয়ের অর্থ আগস্টে জমা দেন বলে দুই মাসের হিসাব একসঙ্গে দেখলেই প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

শুধু আয়কর নয়, জুলাইয়ে প্রায় সব বড় কর থেকেই গত বছরের তুলনায় বেশি অর্থ এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের মোট কর আদায় হয়েছে ৮১ দশমিক ৪ বিলিয়ন পাউন্ড, এক বছরে বৃদ্ধি ৪ বিলিয়ন বা ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে মূল্য সংযোজন কর থেকে এসেছে ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন, আয়-সম্পর্কিত কর থেকে ৩৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন এবং করপোরেশন কর থেকে ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড। কর ও অন্য আয় মিলিয়ে সরকারের চলতি প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১০৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড, যা এক বছর আগের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন বেশি।

কিন্তু কোষাগারে যত দ্রুত অর্থ ঢুকেছে, তার চেয়েও দ্রুত বেরিয়েছে। জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১১০ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন বেশি। অর্থাৎ রাজস্ব যেখানে বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ, ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এই ব্যবধানই রেকর্ড কর আদায়ের পরও সরকারকে নতুন করে ধার করতে বাধ্য করেছে।

ব্যয় বৃদ্ধির বড় অংশ গেছে সামাজিক সুবিধা, সরকারি পরিষেবা এবং ঋণের সুদে। শুধু বিভিন্ন সামাজিক সুবিধা ও ভাতায় জুলাইয়ে খরচ হয়েছে ২৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড, গত বছরের তুলনায় ২ বিলিয়ন বেশি। সরকারি পণ্য ও পরিষেবায় ব্যয় ৩৯ দশমিক ৮ বিলিয়ন এবং স্থানীয় সরকারে চলতি অর্থ স্থানান্তর ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড। আর পুরনো ঋণের সুদ মেটাতেই এক মাসে গেছে ৭ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড, যা গত জুলাইয়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে যুক্ত সরকারি বন্ডের কারণে শুধু জুলাইয়ের সুদ ব্যয়ে আরও ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড যোগ হয়েছে।

তবে দৈনন্দিন খরচের হিসাবে খানিকটা ভাল খবরও রয়েছে। গোটা সরকারি খাতের চলতি বাজেট জুলাইয়ে ৩ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড উদ্বৃত্তে ছিল। অর্থাৎ দৈনন্দিন সরকারি পরিষেবা, কল্যাণ ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য চলতি আয় যথেষ্ট হয়েছে। কিন্তু অবকাঠামো ও অন্যান্য মূলধনী বিনিয়োগও যোগ করলে সামগ্রিক হিসাবে সেই ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ঘাটতিই থেকে যায়।

চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসের ছবি অবশ্য গত বছরের তুলনায় কিছুটা ভাল। এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সরকার ধার করেছে ৫৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ বিলিয়ন বা প্রায় ১০ শতাংশ কম। কিন্তু এখানেও সরকারের জন্য অস্বস্তি রয়েছে, অঙ্কটি ওবিআরের পূর্বাভাসের তুলনায় এখনও ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন পাউন্ড বেশি।

সবচেয়ে বেশি নজর অবশ্য জাতীয় ঋণের সংখ্যাটিতেই। জুলাই শেষে নিট সরকারি ঋণ ২,৯৮৪ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড, এক বছর আগের তুলনায় ৯৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন বেশি। ব্রিটেনের মোট দেশজ উৎপাদনের ৯৪ দশমিক ১ শতাংশের সমান এখন এই ঋণ। অনুপাতটি এক বছর আগের তুলনায় ০ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট কমলেও ঐতিহাসিক বিচারে এখনও অত্যন্ত উঁচু, এমন মাত্রা শেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৬০-এর দশকের গোড়ায়।

অঙ্কের একটি কৌতূহলোদ্দীপক মোড়ও রয়েছে। গত মাসে ওএনএস প্রথমে জুনের ঋণ ২ দশমিক ৯৮৯৯ ট্রিলিয়ন পাউন্ড বলেছিল। নতুন তথ্য হাতে আসার পর সেটি ২ দশমিক ৯৯৪৮ ট্রিলিয়ন পাউন্ডে সংশোধন করা হয়েছে, অর্থাৎ ৩ ট্রিলিয়ন থেকে মাত্র ৫ দশমিক ২ বিলিয়ন দূরে ছিল ব্রিটেন। কিন্তু জুলাই শেষে নিট ঋণের হিসাব আবার নেমে ২ দশমিক ৯৮৪৯ ট্রিলিয়নে এসেছে। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নতুন তথ্যসহ সরকারি সম্পদ ও দায়ের হিসাব বদলানোয় এই ওঠানামা হয়েছে। তাই এক মাসের রেকর্ড কর আদয়কেই ঋণ না বাড়ার একমাত্র কারণ বলা ঠিক হবে না; তবে তা সরকারি অর্থের উপর চাপ নিঃসন্দেহে কমিয়েছে।

নতুন হিসাব এমন সময়ে এল, যখন ব্রিটিশ সরকারের ঋণ নেওয়ার খরচও চাপে। বিশ্বজুড়ে বন্ড বাজারের অস্থিরতার মধ্যে ব্রিটেনের ৩০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ফলন প্রায় ৫ দশমিক ৮১ শতাংশে উঠেছে। ফলে নতুন ঋণ নেওয়া যেমন ব্যয়বহুল হচ্ছে, পুরনো বিশাল ঋণের সুদও সরকারি বাজেটের বড় অংশ গিলে খাচ্ছে। অর্থমন্ত্রী জন হিলিকে তাই অতিরিক্ত ধার এড়িয়ে রাজস্ব শৃঙ্খলা বজায় রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা ও বিশ্লেষকেরা।

পরবর্তী বড় পরীক্ষা ২৮ অক্টোবরের বাজেট। ওই দিনই অর্থমন্ত্রী নতুন বাজেট পেশ করবেন এবং ওবিআর প্রকাশ করবে অর্থনীতি ও সরকারি অর্থব্যবস্থার নতুন পূর্বাভাস। সরকারের নিজস্ব আর্থিক নিয়ম অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসাবে উদ্বৃত্তে যেতে হবে এবং বৃহত্তর নিট আর্থিক দায়কে অর্থনীতির অনুপাতে কমাতে হবে। জুলাইয়ের রেকর্ড কর আদায় সেই পথে সাময়িক স্বস্তি দিলেও খরচ ও ঋণের সুদ যে গতিতে বাড়ছে, তাতে কাজটি সহজ নয়।

তাই ৩ ট্রিলিয়ন পাউন্ডের রেখা আপাতত পেরোয়নি ব্রিটেন কিন্তু সেটিকে নিরাপদ দূরত্বও বলা যাচ্ছে না। ব্যবধান মাত্র ১৫ দশমিক ১ বিলিয়ন পাউন্ড। রেকর্ড কর আদায় সরকারকে খানিকটা সময় কিনে দিয়েছে; ঋণের পাহাড় কিন্তু সেখানেই রয়েছে। পরের কয়েক মাসে প্রশ্নটি তাই আবার ফিরবে, ব্রিটেনের জাতীয় ঋণের অঙ্কের সামনে ‘৩’ বসাটা আর কত দিন ঠেকিয়ে রাখা যাবে?

ব্রিটেনসরকারি ঋণ
    শেয়ার করুন:
    Advertisement
    advertiseadvertise