যুদ্ধের জেরে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল

যুদ্ধ শুরুর পর জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট বাতিল করেছে বিভিন্ন বিমান সংস্থা।
তবে এই পরিস্থিতিতেও পর্যটকদের এখনই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটি জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি সরবরাহে এখন পর্যন্ত নেই কোনো ঘাটতি। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় রয়েছে পর্যাপ্ত আগাম প্রস্তুতি।
অ্যাভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বিশ্বব্যাপী বাতিল করা হয়েছে মোট ফ্লাইটের মাত্র ১ শতাংশ। এর মধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মিউনিখ এবং ইস্তাম্বুলগামী ফ্লাইটগুল। সে তুলনায় যুক্তরাজ্য থেকে আসা-যাওয়ার ফ্লাইটে এর প্রভাব এখন পর্যন্ত সামান্য।
যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিভাগ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যাত্রীদের এখই তাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হবে না। ব্রিটিশ এয়ারলাইনসগুলো আগেই জ্বালানি কিনে রেখেছে। বিমানবন্দরগুলোতেও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
‘কোনো কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীরা আইন অনুযায়ী পূর্ণ রিফান্ড ফ্লাইটের সুবিধা পাবেন’, স্পষ্ট করা হয় বিবৃতিতে।
এয়ারলাইনস ইউকের প্রধান নির্বাহী টিম অল্ডারসলেড স্পষ্ট করেছেন, ‘জ্বালানি সংকটের কারণে কোনো ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে না। আমরা গ্রীষ্মকালীন সব ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছি।’
যুদ্ধ শুরুর পর জেট ফুয়েলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষে প্রতি টন জ্বালানির দাম যেখানে ছিল ৮৩১ ডলার, এপ্রিলে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৩৮ ডলারে পৌঁছায়। বর্তমানে এটি প্রায় ১ হাজার ৫০০ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
এদিকে, এই বাড়তি খরচের চাপে লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স, কেএলএম এবং ডেল্টার মতো বড় সংস্থাগুলো কিছুটা কাটছাঁট করেছে তাদের গ্রীষ্মকালীন সূচি।
লুফথানসা জানিয়েছে, তারা অক্টোবর পর্যন্ত ২০ হাজার ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দীর্ঘ রুটের ফ্লাইটে মাঝপথে জ্বালানি নেওয়ার জন্য বাড়তি বিরতির পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে।
তবে যুক্তরাজ্যের পরিবহন সচিব হেইডি আলেকজান্ডার বলেছেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহে কোনো বিঘ্ন নেই। তবে পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে। আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছি।
সূত্র : বিবিসি।




