ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্য করছে এমন প্রমাণ নেই: স্টারমার

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এমন কোনো মূল্যায়ন বা গোয়েন্দা তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে স্টারমার বলেছেন, সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি নিয়ে সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা চালায়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরাসরি ঝুঁকিতে রয়েছে এমন কোনো মূল্যায়ন নেই।
এর আগে শনিবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, ইরানের কাছে এখন এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিন পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম যার দূরত্ব প্রায় ২ হাজার ৭০০ মাইল।
একই সময় খবর পাওয়া যায়, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি ডিয়েগো গার্সিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। ঘাঁটিটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ২ হাজার ৩৫০ মাইল দূরে অবস্থিত।
যুক্তরাজ্যও কি ওই পাল্লার মধ্যে রয়েছে এমন প্রশ্নে স্টারমার বলেছেন, ‘আমরা সব সময় মূল্যায়ন করি, যাতে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। তবে এমন কোনো মূল্যায়ন নেই যে আমাদের এভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।’
চলমান পরিস্থিতির প্রভাব, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে একটি জরুরি কোবরা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
কোবরা বৈঠকে মন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা একত্র হয়ে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলার কৌশল নির্ধারণ করেন। স্টারমার বলেছেন, ‘অধিকাংশ মানুষই এই সংঘাত এবং এর পারিবারিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। আজ আমরা অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় মোকাবিলায় সরকারের হাতে থাকা সব উপায় পর্যালোচনা করতে বলেছি।’
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের জীবন রক্ষা করা জরুরি, তবে কোনোভাবেই যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়া উচিত নয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও রয়েছেন।
পাল্টা হিসেবে ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষতির পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার ও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক অবস্থান তুলে ধরেন স্টারমার।
তিনি বলেছেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুনরায় চালু করতে হলে তা অত্যন্ত সতর্কভাবে পরিকল্পনা করে করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার হলো জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং উত্তেজনা কমানো।’

