ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলে কীভাবে খরচ করতেন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বিশ্বের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন স্পেসএক্সের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক। গত শুক্রবার স্পেসএক্সের প্রাথমিক পাবলিক অফারিং বা আইপিও বাজারে আসার পরপরই তার সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।
১-এর পরে ১২টি শূন্য বসলে যে সংখ্যাটি দাঁড়ায়, তা সাধারণ মানুষের কল্পনার জগতের বাইরে। এই অংকের বিশালতা বোঝার জন্য একটি সহজ হিসাব হলো, কেউ যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করেও খরচ করেন, তবে সেই অর্থ শেষ করতে তার ২৭০০ বছর সময় লেগে যাবে।
একজন ট্রিলিয়নিয়ারের কাছে এই বিপুল সম্পদ থাকলে তা দুনিয়ার চেহারা বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই অর্থ দিয়ে বিশ্বব্যাপী দুর্ভিক্ষ দূরীকরণ কর্মসূচিতে ১৬৬ বার অর্থায়ন করা সম্ভব, পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের জন্য টানা ২০ বছর বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা দেওয়া যায়, এমনকি গাজা উপত্যকার মতো বিধ্বস্ত অঞ্চল ১৪ বার নতুন করে পুনর্নির্মাণ সম্ভব। অথবা বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে ১২৫ ডলার করে দিতে পারবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহী হলে নাসা বা মহাকাশ গবেষণা সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানে ৪০ বার এক বছর মেয়াদি বিনিয়োগ করার পরও হাতে অঢেল অর্থ থাকবে। স্থাপনা নির্মাণের শখ থাকলে বুর্জ খলিফার মতো বিশাল অট্টালিকা ৬৬৬টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গোল্ডেন গেট ব্রিজের মতো ১২৫টি সেতু তৈরি করা সম্ভব।
আবাসন ও বিলাসিতার দিকে ঝুঁকলে নিউ ইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের মতো ২ হাজারটি ভবন কিনে ফেলা যায়। আবার ২০ হাজারটি প্রাইভেট ক্যারিবিয়ান দ্বীপ কিনে নির্জনতার স্বাদ নেওয়া বা পিকাসোর ২০ হাজার শিল্পকর্ম সংগ্রহ করে শৈল্পিক রুচির পরিচয় দেওয়াও অসম্ভব কিছু নয়। মানবিক সেবার কথা চিন্তা করলে মাঝারি আকারের ৫ হাজারটি আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করে চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ব্যক্তিগত শখ ও বিলাসিতার তালিকাও হবে আকাশছোঁয়া। ফেরারিপ্রেমীরা চাইলেই ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩টি এফ৪০ মডেলের গাড়ি সংগ্রহ করতে পারেন। আর প্রযুক্তিপ্রেমী হলে ৮৩ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স কেনার সুযোগ থাকে। ভোজনরসিক হলে ২০০ বিলিয়ন বার্গার কেনা যায়, আর ফুটবলপ্রেমী হলে প্রিমিয়ার লীগের ৬৬৬টি ফুটবল ক্লাব কিনে ফেলা সম্ভব।
এছাড়াও শিক্ষানুরাগী হলে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ১ কোটি ৬১ লাখ ৩০ হাজার বার পরিশোধ করা যায়। অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন ডলার কেবল ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নয়, এটি বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং প্রযুক্তির প্রসারে এক বিশাল সম্ভাবনার নাম।





