আগামীর সময়

পাকিস্তান

ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে ৫ বছর হাইকোর্টের বিচারপতি

ভুয়া ডিগ্রি নিয়ে ৫ বছর হাইকোর্টের বিচারপতি

ফাইল ছবি

পাঁচ বছর ধরে উচ্চ আদালতের বিচারপতির আসনে বসে একের পর এক রায় দিয়েছেন বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরি কিন্তু পরে জানা গেল, তার আইন বিষয়ের ডিগ্রিটিই ছিল জাল। পাকিস্তান থেকে উঠে আসা এই নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনায় দেশটির বিচার বিভাগে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামাবাদ হাইকোর্ট সম্প্রতি ১১৬ পৃষ্ঠার এক বিস্তারিত রায়ে বিচারপতি তারিক মাহমুদ জাহাঙ্গিরির নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

সোমবার প্রকাশিত রায়ে আদালত স্পষ্টভাবে জানায়, শুরু থেকেই তার শিক্ষাগত সনদ অকার্যকর ছিল। ফলে বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনও আইনগত ভিত্তিহীন।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান জাহাঙ্গিরি। তবে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার বিচারিক ক্ষমতা স্থগিত করা হয়। করাচি বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রারের সরবরাহ করা মূল নথির ভিত্তিতে আদালত নিশ্চিত হয় যে, তার শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র ভুয়া। নথিতে আরও উঠে আসে, তিনি পরীক্ষায় জালিয়াতি ও পরিচয় চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিলেন।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৮ সালে জাহাঙ্গিরি একটি এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে পরীক্ষায় অংশ নেন এবং নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। কিন্তু শাস্তি মেনে না নিয়ে পরের বছরই ‘তারিক জাহাঙ্গিরি’ নামে ইমতিয়াজ আহমেদ নামের আরেক শিক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট নম্বর ব্যবহার করে আবার পরীক্ষায় বসেন তিনি। এছাড়া গভর্নমেন্ট ইসলামিয়া ল কলেজের অধ্যক্ষ আদালতকে জানান, জাহাঙ্গিরি কখনোই তাদের প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হননি।

বিচারপতি থাকাকালীন একাধিকবার সুযোগ দেওয়া হলেও জাহাঙ্গিরি নিজের পক্ষে কোনো মূল সনদ বা লিখিত জবাব দাখিল করতে পারেননি। বরং সময়ক্ষেপণের অংশ হিসেবে তিনি প্রধান বিচারপতির অপসারণ এবং মামলার শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের আবেদন করেন।

শেষ পর্যন্ত মামলাকারীর উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছায় যে, নিজের আইনগত যোগ্যতা প্রমাণে ব্যর্থ হওয়াই তার পতনের মূল কারণ। এই ঘটনা পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

    শেয়ার করুন: