ট্রাম্প-শির বৈঠক
জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার কপালে চিন্তার ভাঁজ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের টেম্পল অফ হেভেন পরিদর্শনকালে কথা বলছেন। ছবি : সংগৃহীত
বেইজিং সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ান নিয়ে কী বার্তা দেবেন— সেই দিকে তাকিয়ে আছে চীনের দুই প্রতিবেশী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। উভয় দেশই ওয়াশিংটনের সামরিক মিত্র। তাদের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও আছে।
দেশ দুটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তাইওয়ানের থেকে পুরোপুরি ভিন্ন। কারণ তাইপেকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃত দেয়নি ওয়াশিংটন। তবে দ্বীপটির আত্মরক্ষায় সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া তাইপের কাছে নিয়মিত অস্ত্র বিক্রি করে আসছে পেন্টাগন।
বিশ্লেষকদের মতে, তাইওয়ানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সহায়তা ও অস্ত্র বিক্রির নীতি বজায় রেখে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতি থেকে সরে আসেন তবে মিত্রদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি তার প্রশাসন রক্ষা করতে পারবে কি না— এ নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য এর অর্থ হবে, চীন বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাত।
ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন হলে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি কে পরিচালনা করছে, সে বিষয়েও প্রশ্ন ওঠবে বলে মত টোকিওর ইন্টারন্যাশনাল ক্রিশ্চিয়ান ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক স্টিফেন নাগির।
দ্য জাপান টাইমসকে দেওয়া এক মন্তব্যে নাগি বলেছেন, চীন, তাইওয়ান ও কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে মূল সিদ্ধান্তগুলো কারা নিচ্ছে, তা নিয়ে যথেষ্ট অস্বচ্ছতা আছে।
তার দাবি, ট্রাম্প একটি সমন্বিত কৌশল অনুসরণ না করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ওয়াশিংটনেরর অন্য মিত্ররা তাদের নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়িয়ে কিছু চাপ কমাতে পারে। কিন্তু আস্থার কোনো বিকল্প নেই। পেন্টাগনের ওপরে নির্ভরশীলতাই এ জোট রাজনীতির মূল ভিত্তি। এটি ছাড়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা




