এআইয়ের আশীর্বাদে ফুলেফেঁপে উঠছেন তাইওয়ানের ধনকুবেররা

বাঁ থেকে জেসন এবং রিচার্ড চ্যাং
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ে জোয়ারে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে তাইওয়ানের ধনকুবেরদের সম্পদ। সেমিকন্ডাক্টর ও এআই খাতের ব্যাপক উত্থানে এক বছরে দেশটির ৫০ শীর্ষ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ বেড়েছে ১১১ বিলিয়ন ডলার। ফলে রেকর্ড ৩০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে তাদের মোট সম্পদের পরিমাণ।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে তাইওয়ানের অর্থনীতি। এই প্রবৃদ্ধি গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে এআই-নির্ভর শেয়ারবাজারের উল্লম্ফনে দেশটির ৫০ শীর্ষ ধনীর সম্মিলিত সম্পদ এক বছরে ১৯৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে রেকর্ড ৩০৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এআই খাতের উত্থানে এক বছরে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে তাইওয়ানের প্রধান শেয়ার সূচক তাইএক্স। ফলে ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে তাইওয়ানের শেয়ারবাজার এখন পরিণত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বাজারে।
এ বছরের তালিকায় সম্পদ বেড়েছে ৩৪ ধনীর। সবচেয়ে বেশি সম্পদ বাড়ার সুবাদে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ধনীর অবস্থানে উঠে এসেছেন দুই ভাই জেসন চ্যাং ও রিচার্ড চ্যাং। এই দুই ভাইয়ের সম্পদ এক বছরে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে পৌঁছেছে ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। তারা দায়িত্ব পালন করছেন সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং, অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং প্রতিষ্ঠান এএসই টেকনোলজি হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন ইলেকট্রনিক উপাদান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইয়াগেওর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান পিয়ের চেন। তার সম্পদ ১২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বেড়ে উন্নীত হয়েছে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে।
গত বছরের শীর্ষ ধনী ড্যানিয়েল সাই ও রিচার্ড সাই এ বছর নেমে গেছেন তৃতীয় স্থানে। যদিও তাদের সম্পদ ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে। তাদের ফুবন ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংয়ের শেয়ারের দাম বেড়েছে এক বছরে ২৬ শতাংশ।
চতুর্থ স্থানে রয়েছেন বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রনিকস চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হন হাই প্রিসিশন ইন্ডাস্ট্রির প্রতিষ্ঠাতা টেরি গৌ। ফক্সকন নামে বেশি পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দাম এক বছরে ৭০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় তার সম্পদ পৌঁছেছে ১৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে। ফক্সকন ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই সার্ভার তৈরির অন্যতম প্রধান উৎপাদক।
শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের প্রতিষ্ঠাতা ব্রুস চেংয়ের। এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই জিপিইউ-সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা ও উপাদান তৈরি করে তার প্রতিষ্ঠান। প্রায় পাঁচ গুণ সম্পদ বেড়ে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে সপ্তম স্থানে উঠে এসেছেন তিনি।
এবারের তালিকায় নতুন করে যুক্ত হয়েছেন আটজন। তাদের সবাই সেমিকন্ডাক্টর বা এআই-সংশ্লিষ্ট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নতুনদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী হচ্ছেন এআই চিপ পরীক্ষার যন্ত্র প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হন প্রিসিশনের চেয়ারম্যান শিয়ে ওয়েন-তা। গত নভেম্বরে আইপিওর পর তার কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার সম্পদ নিয়ে ১২তম স্থানে অভিষেক ঘটিয়েছেন তিনি।
আগে তালিকা থেকে বাদ পড়লেও এবার আবার ফিরেছেন তিনজন ধনকুবের। তাদের মধ্যে রয়েছেন গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারী মিন্থ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চিন জং হুয়া। ইউরোপ ও চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাদের চাহিদা বাড়ার ফলে লাভবান হয়েছে তার কোম্পানি।
তবে সবার সম্পদ বাড়েনি। কমেছে চারজন ধনীর সম্পদ। তাদের মধ্যে অন্যতম হুয়ালি ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ঝ্যাং ছংইউয়ান। তার সম্পদ ২০ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ৬ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে। বাণিজ্যিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অর্ডার কমে যাওয়ায় তার জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।
গত বছরের তালিকায় থাকা ১১ জন জায়গা পাননি এবার। তাদের মধ্যে রয়েছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান রুয়েনটেক্স গ্রুপের সাবেক সভাপতি স্যামুয়েল ইয়িন। তিনি চলতি বছরের মে মাসে ৭৬ বছর বয়সে মারা যান।
এবার তালিকায় স্থান পেতে ন্যূনতম সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় অনেক বেশি।





