উন্নয়নশীল দেশের মহাকাশ প্রকৌশলীদের প্রশিক্ষণ দেবে জাপান

সংগৃহীত ছবি
জাইকার নতুন একটি কর্মসূচির আওতায় ভারত, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়াসহ উন্নয়নশীল দেশের মহাকাশ শিল্পের পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দেবে জাপানের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো। শিক্ষার্থী, মহাকাশ খাতের প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং জাতীয় মহাকাশ সংস্থার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য জাপানে আমন্ত্রণ জানানো হবে। কেনিয়া ও সেনেগালের মতো আফ্রিকান দেশসহ মোট ১২টি দেশ থেকে রয়েছে অংশগ্রহণকারী গ্রহণের পরিকল্পনা।
প্রশিক্ষণার্থীরা স্যাটেলাইট নির্মাণের দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন অথবা স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ শেখার সুযোগ পাবেন। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় গঠিত প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কাঠামোর মাধ্যমে চলতি বছর থেকেই শুরু হতে পারে এই প্রশিক্ষণ।
বর্তমানে জাপানে একটি কর্মসূচি রয়েছে, যার মাধ্যমে এই ১২টি দেশের কর্মকর্তারা জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। নতুন কর্মসূচিতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের তালিকায় যুক্ত করা হবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও।
যেসব স্টার্টআপ প্রশিক্ষণার্থীদের গ্রহণ করবে, তারা এমন তরুণ মেধাবীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে, যারা ভবিষ্যতে নিজ নিজ দেশের মহাকাশ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দুর্যোগ মোকাবিলায় স্যাটেলাইট তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহারের কাজ চলছে। ফিলিপাইন অতীতের লাভা প্রবাহের তথ্য বিশ্লেষণ করে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা তৈরি করতে চায়। আগ্নেয়গিরিপ্রবণ দেশ হিসেবে এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের।
আফ্রিকার দেশগুলো ফসল ব্যবস্থাপনায় স্যাটেলাইট তথ্য ব্যবহার করছে। ক্ষেতের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ফলনের পরিমাণ অনুমান করা হচ্ছে। সম্ভাব্য আয় সম্পর্কে ধারণা থাকলে কৃষি বীমা কেনা সহজ হয়, ফলে আরও স্থিতিশীল হয় আয়।
জাইকা চীনের মহাকাশ উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখছে। চীন ২০৫০ সালের মধ্যে মহাকাশবিজ্ঞানে পরাশক্তি হওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যৌথভাবে পরিকল্পিত আন্তর্জাতিক চন্দ্র গবেষণা কেন্দ্র নিয়েও কাজ করছে বেইজিং।
জাইকার এক প্রতিনিধি বললেন, ‘সহায়তা পাওয়া ১২টি দেশ নির্বাচন করার সময় তারা যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আর্টেমিস চন্দ্র কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে কি না, বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে সেটিও।’




