বিশ্বব্যাংক থেকে ১৫১ বিলিয়ন শিলিং ঋণ চাইছে কেনিয়া

কেনিয়ার ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্বব্যাংক থেকে নতুন করে ১৫১ দশমিক ২ বিলিয়ন কেনিয়ান শিলিং (কেনিয়ার মুদ্রা) ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেনিয়ার জাতীয় অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি)। দেশটির ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা ও আর্থিক ঘাটতি সামাল দিতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে সংস্থাটি।
কেনিয়ার জাতীয় ট্রেজারি থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বার্ষিক ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিশ্বব্যাংকের তিনটি ভিন্ন অর্থায়ন কাঠামোর (উইন্ডো) মাধ্যমে এই বিপুল অংকের অর্থ ছাড় করানোর লক্ষ্য রাখা হয়েছে। জাতীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই নথির তথ্যানুযায়ী, ডেবট পলিসি অপারেশন (ডিপিও)-এর অধীনে চাওয়া হয়েছে ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন শিলিং। এ ছাড়া আকস্মিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় 'র্যাপিড রেসপন্স অপশন’-এর মাধ্যমে ৫২ বিলিয়ন শিলিং এবং ‘প্রোগ্রাম-ফর-রেজাল্টস’ সুবিধার অধীনে আরও ৫ বিলিয়ন শিলিং চেয়েছে রুটো সরকার।
তবে এই ডিপিও খাতের ঋণ পেতে কেনিয়াকে বেশ কিছু প্রশাসনিক নীতিগত সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রশাসনে দুর্নীতিবিরোধী তথ্য প্রকাশকারীদের (হুইসেলব্লোয়ার) সুরক্ষা বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) চুক্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার শর্তও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
জাতীয় ট্রেজারির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একই ধরনের নীতিগত শর্ত মেনে গত জুন মাসেও কেনিয়াকে ৯৭ বিলিয়ন শিলিংয়ের একটি ঋণ সহায়তা দেয় বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া আগামী অক্টোবরে সম্ভাব্য এল নিনোর বৃষ্টিপাত কিংবা আকস্মিক অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’-এর অধীনে অতিরিক্ত ৫৮ বিলিয়ন শিলিং পাওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
ট্রেজারির নথিতে আরও দেখা যায়, চলতি অর্থবছরে বৈদেশিক উৎস থেকে মোট ৬৬০ দশমিক ১ বিলিয়ন শিলিং ঋণ সংগ্রহের সার্বিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্বব্যাংকের এই বাজেট সহায়তা সেই পরিকল্পনারই একটি অন্যতম প্রধান অংশ।
এদিকে জাতীয় ট্রেজারির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে কেনিয়ার সরকারি ঋণের চিত্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে দেশটির মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল ১১ দশমিক ৮১ ট্রিলিয়ন শিলিং। তবে ২০২৬ সালের জুনে তা ৯ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ০১ ট্রিলিয়ন শিলিংয়ে। মূলত অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে উচ্চ সুদে বেশি ঋণ নেওয়ার কারণেই সরকারের ওপর এই ঋণের চাপ দ্রুত বেড়েছে বলে প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়।
তথ্যসূত্র: কেনিয়ার জাতীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি) অফিসিয়াল নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে






