ইথিওপিয়া
১২ বছর নিঃসন্তান নারীর কোলে এলো ৫ সন্তান

বেদরিয়া আদেম
ইথিওপিয়ার হারারি রাজ্যে ১২ বছর নিঃসন্তান ছিলেন বেদরিয়া আদেম নামের এক নারী। তবে দীর্ঘ এক যুগ পর তার কোলে এসেছে সন্তান। তবে একটি বা দুটি নয়, এই নারী একসঙ্গে জন্ম দিয়েছেন পাঁচ সন্তানের।
বেদরিয়া আদেম বলছেন, তিনি ও তার স্বামী ‘একসঙ্গে পাঁচ সন্তান পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত’।
৩৫ বছর বয়সী এই নারী হিওয়ত ফানা স্পেশালাইজড হাসপাতালে চার ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম দেন। হাসপাতাল জানিয়েছে, সব নবজাতকই ‘সম্পূর্ণ সুস্থ’ রয়েছে।
তিনি বিবিসিকে বললেন, ‘আমি ভাষায় আমার আনন্দ প্রকাশ করতে পারছি না।’
তিনি স্মরণ করেন, তার প্রার্থনা পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি ‘হতাশা ও যন্ত্রণায় ভরা’ ছিলেন।
হাসপাতালের মেডিকেল পরিচালক ডা. মোহাম্মদ নুর আবদুলাহি জানান, মা ও নবজাতকেরা এখনো হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। শিশুদের ওজন ছিল ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ কেজি।
তিনি বিবিসিকে বলেছেন, এক কেজির বেশি ওজন নিয়ে জন্মানো নবজাতকদের বেঁচে থাকা ও সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
চিকিৎসক জানান, বেদরিয়া স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করেছিলেন, ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)-এর সাহায্য ছাড়াই। আইভিএফ সেবা দেওয়া হয় না হাসপাতালটিতে।
একাধিক ভ্রূণ স্থানান্তর করা হলে আইভিএফের মাধ্যমে একাধিক সন্তান জন্মের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
স্বাভাবিকভাবে পাঁচ সন্তান গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখে একবার।
চিকিৎসক জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম হয়েছে সন্তানগুলোর।
মোহাম্মদ বলছেন, ‘গর্ভাবস্থায় তিনি নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন এবং তাকে জানানো হয়েছিল যে তিনি একাধিক সন্তান ধারণ করেছেন। পুরো সময়জুড়ে তিনি পূর্ণ ও যথাযথ চিকিৎসা সহায়তা পেয়েছেন।’ বেদরিয়ার ‘উচ্ছ্বাসের’ কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বেদরিয়া জানিয়েছেন, শুরুতে তাকে জানানো হয়েছিল যে তিনি চার সন্তানের গর্ভধারণ করেছেন, কিন্তু সন্তান জন্মের সময় পাওয়া যায় আরও একজন।
তার ভাষ্য, ‘আমি শুধু একটি সন্তানের জন্য প্রার্থনা করেছিলাম, আর আল্লাহ আমাকে পাঁচটি দিয়েছেন।’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার সময়ের অনুভূতি বর্ণনা করতে গিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
প্রথমবারের মতো মা হওয়া এই নারী জানান, তার স্বামীর আগের এক বিয়ের একটি সন্তান রয়েছে, যে তাদের সঙ্গেই থাকত।
বেদরিয়া বললেন, ‘তিনি আমাকে বলতেন যে [অন্য সন্তানটি] থাকাই যথেষ্ট এবং আমার চিন্তা করা উচিত নয়। কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি মানসিক ও আবেগগতভাবে কষ্ট পাচ্ছিলাম, কারণ পুরো গ্রাম আমার সন্তান জন্ম দিতে না পারাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলত।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘অতীতে যা সহ্য করেছি, এখন তা দূরের এক দুঃস্বপ্নের মতো মনে হয়, যা আমি আর স্মরণ করতে চাই না।’
‘আমি ১২ বছর কষ্টে কাটিয়েছি, নিজেকে আড়ালে রেখেছি এবং সন্তান পাওয়ার জন্য নিরন্তর প্রার্থনা করেছি — অবশেষে আল্লাহ আমার কথা শুনেছেন।’
তিনি জানান, তিনি একজন কৃষক এবং এত বড় পরিবার কীভাবে চালাবেন তা নিশ্চিত নন।
‘তবে আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ ব্যবস্থা করবেন, আমার সম্প্রদায় ও সরকারের সহায়তার মাধ্যমে’, যোগ করেন তিনি।
তাদের ‘পাঁচ আশীর্বাদের’ নাম রাখা হয়েছে নাইফ, আম্মার, মুনজির, নাজিরা এবং আনসার।


