বুকফাটা তৃষ্ণায় গেল ৪৯ প্রাণ
- সাহারা মরুভূমিতে গাড়ি বিকল

বুকফাটা তৃষ্ণায় ছটফট করতে করতে গেল ৪৯ প্রাণ। এক ফোঁটা পানির অভাবে কী করুণ মৃত্যু মানুষের। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে সাহারা মরুভূমিতে। পশ্চিম আফ্রিকার দেশ উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত মরুভূমি সাহারার ‘ডেথ জোন’ বা মৃত্যুপুরীর ঘটনা। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ করেছে প্রদেশের আগাডেজ প্রশাসন। বিবিসি।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মালির তেলহ্যান্ডেক শহর থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল মুসলিমদের এক অনুষ্ঠান থেকে ট্রাকে করে ফিরছিল। পশ্চিম আসামাকা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে সাহারা মরুভূমিতে আলজেরিয়া, মালি ও নিগার প্রদেশের মাঝখানের ‘ডেথ জোনে’ এ ট্রাক বিকল হয়ে যায়।
মালির তেলহ্যান্ডেক শহর থেকে ৫০-৬০ জনের একটি দল মুসলিমদের এক অনুষ্ঠান থেকে ট্রাকে করে ফিরছিল। পশ্চিম আসামাকা থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে সাহারা মরুভূমিতে আলজেরিয়া, মালি ও নিগার প্রদেশের মাঝখানের ‘ডেথ জোনে’ এ ট্রাক বিকল হয়ে যায়
তীব্র তাপপ্রবাহ এবং কাছাকাছি কোনো পানির উৎস না থাকায় যাত্রীরা চরম জীবনসংকটে পড়েন। গাড়িটি বিকল হওয়ার পর চালক, তার সহকারী এবং যাত্রীরা মিলে টানা কয়েক দিন ধরে তা মেরামতের চেষ্টা চালিয়েছিলেন। কিন্তু ব্যর্থ হয় সব চেষ্টাই। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে থাকা পানি শেষ হয়ে গেলে মরুভূমির তীব্র গরমে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সবাই। এই ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে অলৌকিকভাবে শুধু দুজন যাত্রী বেঁচে ফেরেন। তারা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথ হেঁটে আসামাকা সীমান্তে পৌঁছান এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অচল ট্রাকটির নিচে এবং এর আশপাশ থেকে ডজন ডজন নিথর দেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে মরুভূমির ওই প্রত্যন্ত এলাকাতেই স্বজনহীন এই ভুক্তভোগীদের গণকবর দেওয়া হয়। গভর্নর জানিয়েছেন, ট্রাকটি মালির তেলহান্দেক শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, কিন্তু পরে নির্ধারিত রুট বা পথ থেকে অনেকটাই বিচ্যুত হয়ে পড়ে। ভয়াবহ ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দাফন শেষে ফেরার পথে উদ্ধারকারী দলটি আরও একটি বড় বিপর্যয় রুখে দিয়েছে। মরুভূমির অন্য একটি অংশে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে তিন দিন ধরে আটকে থাকা আরও একটি ট্রাকের সন্ধান পায় নাইজারের সেনা ও উদ্ধারকারীরা। মালির হারুবা শহর থেকে রওনা হওয়া ওই ট্রাকে ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন। প্রচণ্ড গরমে তৃষ্ণার্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়া সেসব যাত্রীর মধ্যে দ্রুত পানি বিতরণ করা হয় এবং তাদের গাড়িটি মেরামত করে নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়। আফ্রিকার এই মরুভূমি অঞ্চলটি ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশী ও সীমান্ত বাণিজ্যে নিয়োজিত তরুণদের অন্যতম প্রধান যাতায়াত পথ। এই ট্র্যাজেডি উন্নত জীবনের আশায় দুর্গম ও বিপজ্জনক পথ বেছে নেওয়া তরুণদের চরম ঝুঁকিপূর্ণ বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় গভর্নর।




