মুকুট হারালেন ইলন মাস্ক

ইলন মাস্ক- রয়টার্স
বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইলন মাস্কের সম্পদে লেগেছে বড় ধাক্কা। স্পেসএক্সের শেয়ারের তীব্র পতন এবং টেসলার শেয়ারের দুর্বল পারফরম্যান্স তার সম্পদ থেকে শত শত বিলিয়ন ডলার মুছে দিয়েছে বলে জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।
সাম্প্রতিক সম্পদমূল্যায়ন অনুযায়ী, স্পেসএক্সের শেয়ারদরের বড় পতনের ফলে মাস্কের মোট সম্পদ আবারও এক ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে তার সংক্ষিপ্ত কিন্তু ঐতিহাসিক অবস্থানের ইতি ঘটেছে।
এই পতনের প্রধান কারণ স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য সংশোধন। চলতি মাসে রেকর্ড গড়া শেয়ারবাজারে অভিষেকের পর বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। একই সঙ্গে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণও সাময়িকভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।
তবে আইপিও-পরবর্তী সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে স্পেসএক্সের শেয়ার দ্রুত নেমে আসতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেয়ারটি সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
স্পেসএক্সে মাস্কের বড় অংশীদারত্ব থাকায় এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে তার ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর।
অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়ির চাহিদা কমে যাওয়া, প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাজারের অস্থিরতার কারণে টেসলার শেয়ারও চাপে রয়েছে। টেসলা এখনো মাস্কের সম্পদের অন্যতম বড় উৎস হওয়ায় কোম্পানিটির শেয়ারদরের পতন তার মোট সম্পদকে আরও কমিয়ে দিয়েছে।
স্পেসএক্স ও টেসলার মূল্যহ্রাস মিলিয়ে মাস্কের সম্পদের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুতে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছোঁয়ার পর মাস্কের সম্পদ কমে বর্তমানে প্রায় ৯৫৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।
আরও কিছু অনুমান বলছে, স্পেসএক্সের শেয়ারদর কমে যাওয়ার ফলে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে তার সম্পদ ২৪০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি কমেছে।
তবে এই পতনের পরও বিশ্বের শীর্ষ ধনীর অবস্থান ধরে রেখেছেন মাস্ক। এখনো গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ, অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ওরাকলের চেয়ারম্যান ল্যারি এলিসনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন তিনি।




