ইন্দো-প্যাসিফিকে ‘অস্ত্র দৌড়’
মার্কিন ছাতায় থেকেও চীনের ভয়ে কাঁপুনি
- দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

নিজেদের সামরিক শক্তি বাড়াতে ও একে অন্যের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করতে তৎপর হয়ে উঠেছে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো। তাদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও মনোযোগ নিয়ে সংশয় বাড়ছে দেশগুলোর মধ্যে। একই সঙ্গে দ্রুত সামরিক উত্থানের পথে এগিয়ে যাচ্ছে চীন। এ অবস্থায় নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার তাগিদ অনুভব করছে ওই অঞ্চলের দেশগুলো। রয়টার্স।
২৯-৩১ মে সিঙ্গাপুরে এশিয়ার শীর্ষ প্রতিরক্ষা ফোরাম শাংগ্রি-লা ডায়ালগ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ ৪৪টি দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, সামরিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর নিরাপত্তায় সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
শনিবার সংলাপে আঞ্চলিক অংশীদারদের নিরাপত্তাব্যবস্থার আরও বেশি দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নেওয়ার আহ্বান জানান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে একই সময়ে তাকে এমন উদ্বেগের মুখোমুখি হতে হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অগ্রাধিকার হয়তো সরে যাচ্ছে অন্যদিকে। বিশেষ করে, ইরানকে ঘিরে সংঘাত এখন ওয়াশিংটনের বাড়তি মনোযোগ দাবি করছে।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বললেন, তিনি বিশ্বাস করেন— ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার রয়েছে ‘অটল’। তবে স্বীকার করেন, কিছু দেশ এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সংকল্পকে কম করে মূল্যায়ন করতে পারে।
সম্মেলনের ফাঁকে রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার দেন বিভিন্ন দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সামরিক কর্মকর্তারা। তাদের স্পষ্ট ভাষ্য, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা ছাতার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জোরদার হচ্ছে এখন।
ফিলিপাইনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী গিলবার্তো তেওদোরো রয়টার্সকে বললেন, এখানে উপস্থিত সব প্রতিরক্ষামন্ত্রীই একমত যে, নিজেদের স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাড়ানো জরুরি।
জাপান নিজেকে এই বিস্তৃত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্কের একটি কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি বললেন, চীনের বাইরে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার জন্য একটি ‘সংযোগস্থল’ হিসেবে কাজ করতে চায় টোকিও।
গত এপ্রিলে জাপান কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি নীতির সংস্কার ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে বিদেশে অস্ত্র বিক্রির ওপর থাকা বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয় এবং যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র রপ্তানির পথ হয় উন্মুক্ত। ফোরামে কোইজুমি আরও জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সহযোগিতায় জাপান আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি দেশের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা নিশ্চিত করা। যখন প্রয়োজন হবে, তখন তা পৌঁছে দেওয়া তাদের কাছে।
সিঙ্গাপুরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চান চুন সিং বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সমমনা দেশগুলোর সঙ্গে নমনীয় অংশীদারত্ব গড়ে তোলা উচিত।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন কানাডার প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান জেনি ক্যারিগন, নিউজিল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ক্রিস পেঙ্কসহ অন্যরা।






