ইউরোপে তীব্র তাপ, ফ্রান্সে বিদ্যুৎহীন ৬৮ হাজার বাড়ি
- পরিদর্শন সময়সীমা কমিয়েছে ল্যুভর মিউজিয়াম

চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করতে পারে- রয়টার্স
ফ্রান্সসহ সমগ্র পশ্চিম ইউরোপে চলছে নজিরবিহীন ও তীব্র তাপ প্রবাহ, যা ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোয়। আজ বুধবার ফ্রান্সের অর্ধেকেরও বেশি এলাকা জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ‘রেড অ্যালার্ট’। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় অঞ্চলে তীব্র গরমে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে বিদ্যুৎহীন প্রায় ৬৮ হাজার বাড়িঘর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর মেতেও ফ্রান্স জানাচ্ছে, গতকাল মঙ্গলবার ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তপ্ত জুন মাস রেকর্ড হয়েছে। গড় তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় লান্দেসের কিছু অংশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গিয়ে পৌঁছায় ৪৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এই তীব্র তাপ প্রবাহের কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শুধু ফ্রান্সেই পানিতে ডুবে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গরম থেকে বাঁচতে পানিতে নেমেছিলেন তারা।
ফ্রান্সের পাশাপাশি স্পেন ও ইতালিতে নেমেছে চরম বিপর্যয়। এর মধ্যে ইতালির ১৬টি প্রাদেশিক রাজধানীতে রেড অ্যালার্ট দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোয় প্রকট রূপ ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
নেদারল্যান্ডস ও বেলজিয়ামে আগামী শুক্রবার নাগাদ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। নেদারল্যান্ডসের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে বিপজ্জনক আবহাওয়ার পূর্বাভাস হিসেবে জারি হয়েছে ‘কোড অরেঞ্জ’।
বেলজিয়াম সরকারও দেশের প্রবীণ এবং শিশু সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় ওজোন ও তাপ পরিকল্পনার ‘অ্যালার্ট ফেজ’ সক্রিয় করেছে।
অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করতে পারে। পোল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া ও হাঙ্গেরির মতো পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতেও তীব্র গরমের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ফরাসি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির শ্রমমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমরা আসলে ধীরে ধীরে একটি চরম উষ্ণ দেশে পরিণত হয়েছি।’
বৈরী আবহাওয়ায় বিশ্ববিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ আগামী শনিবার পর্যন্ত তাদের প্রতিদিনের পরিদর্শন সময়সীমা এগিয়ে এনেছে। মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবনটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো যথেষ্ট উপযোগী নয়।





