দাম বাড়ছে ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জয়জয়কারে আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে মেমোরি ও স্টোরেজ চিপের দাম। এই বাড়তি খরচের জেরে ম্যাকবুক ও আইপ্যাডসহ নিজেদের বেশ কিছু জনপ্রিয় পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির পণ্যের নতুন এই মূল্যবৃদ্ধি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, তাদের এন্ট্রি-লেভেলের ম্যাকবুক নিও-এর দাম ৫৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬৯৯ ডলার করা হয়েছে। এছাড়া সবচেয়ে সাশ্রয়ী আইপ্যাডের দাম ৩৪৯ ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪৯ ডলার এবং আইপ্যাড মিনির দাম ১০০ ডলার বাড়িয়ে ৫৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে অ্যাপল টিভির দাম ১২৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ ডলার, অ্যাপল ভিশন প্রো হেডসেটের দাম ২০০ ডলার বাড়িয়ে ৩ হাজার ৬৯৯ ডলার এবং হোমপড স্পিকারের দাম ২৯৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩৪৯ ডলার করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার থেকেই অ্যাপলের অনলাইন স্টোরে এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তবে বেস্ট বাই এবং টার্গেটের মতো কিছু থার্ডপার্টি ওয়েবসাইটে এখনো পুরোনো দামই দেখা যাচ্ছে।
এক বিবৃতিতে অ্যাপল জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিপুলসংখ্যক এআই ডাটা সেন্টার গড়ে ওঠার কারণে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে মেমোরি ও স্টোরেজের চাহিদা। যন্ত্রাংশের দাম এত কম সময়ে এতটা বাড়তে তারা আগে কখনো দেখেনি।
অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আমরা এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া উপায় ছিল না। এরই অংশ হিসেবে আইপ্যাড ও ম্যাকের দাম বাড়ানো হয়েছে।
‘আমরা জানি এটি কোনো সুখবর নয়, তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছি’, যোগ করেন ওই মুখপাত্র।
এদিকে, দাম বাড়ানোর এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার অ্যাপলের শেয়ারের দর ৬.১ শতাংশ কমে গেছে।
এর আগে গত সপ্তাহে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) টিম কুক চিপ সংকটের কারণে পণ্যের দাম বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, চিপের মূল্যবৃদ্ধি অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিম কুক বলেছিলেন, আমাদের ওপর যে বাড়তি খরচের বোঝা চাপানো হচ্ছে, তা কমানোর জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। গ্রাহকদের এই মূল্যবৃদ্ধি থেকে দূরে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করেছি, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না।
সূত্র : সিএনএন





