আগামীর সময়

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ব্রিটিশ অর্থনীতিতে, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ব্রিটিশ অর্থনীতিতে, মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা

প্রতীকী ছবি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর অব দ্য এক্সচেকার র‍্যাচেল রিভস। ‘বর্তমান পরিস্থিতি আগামী মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’

জি–৭ দেশের অর্থমন্ত্রীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর পার্লামেন্টে বক্তব্যে র‍্যাচেল রিভস এ আশঙ্কা করেন। ‘পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব এর তীব্রতা ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে। তবে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তেল মজুত থেকে সমন্বিতভাবে তেল ছাড়ার উদ্যোগকে সমর্থন করতে যুক্তরাজ্য প্রস্তুত।’

এ বিষয়ে সতর্ক বার্তা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ‘সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, অর্থনীতিতে এর প্রভাব তত বাড়বে।’

লন্ডনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে তিনি বর্ণনা করেন, ‘এই পরিস্থিতি যত দীর্ঘ হবে, ততই আমাদের অর্থনীতি এবং প্রত্যেক মানুষের জীবন ও পরিবারের ওপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বাড়বে। সরকার ঝুঁকি মূল্যায়ন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করছে।’

মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। অপরিশোধিত তেলের দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছে যায় যা প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি। পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলে দাম ৯০ ডলারের নিচে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যে গ্যাসের দাম প্রতি থার্ম ৮০ পেন্স থেকে বেড়ে ১৫৮ পেন্সে পৌঁছেছে।

তবে এমন পরিস্থিতে গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানাল সরকার। ‘জ্বালানির মূল্যসীমা (এনার্জি প্রাইস ক্যাপ) স্বল্পমেয়াদে বেশিরভাগ পরিবারকে সুরক্ষা দেবে। তবে গ্রামীণ অঞ্চলের যেসব বাড়ি হিটিং অয়েলের ওপর নির্ভরশীল, তারা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। লেবার রুরাল রিসার্চ গ্রুপের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রিডের বাইরে থাকা হিটিং অয়েলের দাম কিছু ক্ষেত্রে ১১৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।’

গ্রামীণ বাসিন্দাদের আশঙ্কার কথা পুনর্ব্যবক্ত করলেন সাফোক কোস্টাল আসনের সংসদ সদস্য জেনি রিডেল-কারপেন্টার। ‘হাজার হাজার পরিবার এখন আশঙ্কা করছে যে তাদের বাড়ি গরম রাখার জন্য তেল কেনা সম্ভব হবে না। হিটিং অয়েলের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে সহায়তার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।’

একই সঙ্গে জ্বালানি বিক্রেতাদের অতিরিক্ত মুনাফা না করতেও কঠোরভাবে সতর্ক করলেন তিনি। ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বর্তমান সংকটকে কাজে লাগিয়ে কোনো কোম্পানি ভোক্তাদের ক্ষতির বিনিময়ে অতিরিক্ত মুনাফা করলে তা আমি মেনে নেব না।’

এদিকে, বিরোধীদের সমালোচনার মধ্যেও আগামী সেপ্টেম্বর থেকে জ্বালানি শুল্ক ৫ পেন্স বাড়ানোর পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক জ্বালানি শুল্ক কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এসএনপির ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিন পরিবারগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার দাবি জানান।

ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ মানুষ মনে করেন এই সংঘাত তাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই অঞ্চলে যে আগুন জ্বালিয়েছে, তার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল আর ফিরবে না,’ পোস্টে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সোমবার ইরানের বিভিন্ন স্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান নতুন করে হামলা চালায়। একই সময়ে তেহরানে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে সমর্থন জানিয়ে সমাবেশ করতে দেখা যায়।

    শেয়ার করুন: