১৫ পয়েন্ট ২৫ সেকেন্ড, ব্যাডমিন্টন কি বেশি চাপের হতে চলেছে?

সংগৃহীত ছবি
ব্যাডমিন্টনে ১৫ পয়েন্টের ফরম্যাট করা হয়েছে খেলাটিকে দ্রুতগতির করতে। তারপরও ম্যাচগুলো চলছে এক ঘণ্টা পর্যন্ত। পাশাপাশি যোগ হওয়া ২৫ সেকেন্ডের 'শট ক্লক' তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই খেলাটিকে আরও চ্যলেঞ্জিং করে তুলেছে।
মিসরের কায়রোতে অনুষ্ঠিত ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে পরীক্ষামূলক এই নিয়মে ১০টি সেমিফাইনাল ম্যাচের গড় সময় ছিল ৩৯.৪ মিনিট। এর একটি শেষ হয়েছে ১৭ মিনিটে। পুরুষ দ্বৈতে তাইওয়ানের পিং সুয়ান চেন এবং ওয়েই টিং লি ১০-৪, ১৫-৮ ব্যবধানে হংকংয়ের মাইকেলঅ্যাঞ্জেলো জুটো এবং ঝিরুই জেরি ইউ-কে হারান দাপটেই।
অন্য একটি সেমিফাইনাল চলেছে ৫৯ মিনিট। চীনের ই জিন ঝাং হংকংয়ের শাটলার ইপ সাম ইয়াউ-কে হারান ১২-১৫, ১৫-১০, ১৫-১০ ব্যবধানে।
২০২৭ সালের ডিসেম্বরে চালু হতে যাওয়া ১৫ পয়েন্টের এই নতুন ফরম্যাট সামনে কী নিয়ে আসতে পারে, এটি ছিল তার একটি ইঙ্গিত। হ্যাঁ, হয়তো ১৭ মিনিটে ‘আসলাম, জিতলাম, চলে গেলাম’ টাইপের ম্যাচ হবে অনেক। কিন্তু রক্ষণাত্মক কৌশলের খেলোয়াড়রা এই ১৫×৩ ফরম্যাটকেও টেনে এক ঘণ্টার কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারেন, যা ব্রডকাস্টারদের সময় বেঁধে সরাসরি সম্প্রচার করার ভাবনায় পানি ঢেলে দেবে।
মিসরে ফাইনালে পুরুষ দ্বৈতের ম্যাচ সবচেয়ে কম সময় নেয়, মাত্র ২৩ মিনিটে শিরোপা জেতে তাইওয়ানের জুটি। অন্যদিকে নারী ও পুরুষ এককের ফাইনাল শেষ হয়েছে ৪৭ মিনিটে। নারী দ্বৈত ম্যাচটি ৪১ মিনিটে শেষ হলেও মিশ্র দ্বৈতের খেলাটি ৫০ মিনিট পর্যন্ত গড়ায়। ইন্দোনেশিয়ার হাবিব ও মুক্তি প্রথম সেটে হারলেও তিনটি ম্যাচ পয়েন্ট বাঁচিয়ে জেতে ১৭-১৫, ৮-১৫, ১৬-১৪ পয়েন্টে। অতিরিক্ত দুই পয়েন্ট খেলতে হয়েছিল এই ম্যাচে। ১৫ পয়েন্টের ম্যাচকেও টেনেটুনে ২১-১৯ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এই ম্যাচ।
১৫ পয়েন্টের খেলা মানেই শুরু থেকে সর্বোচ্চ গতি ও চাপ বজায় রাখা, কারণ শেষ মুহূর্তটি চোখের পলকে সামনে চলে আসে। ধীরে ধীরে খেলায় মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ গতিতে খেলায় শরীরের ওপর অনেক বেশি ধকল যাবে। পাশাপাশি কঠিন রক্ষণ যোগ করলে ব্যাডমিন্টন মূলত আগের সেই অবস্থাতেই ফিরে যাচ্ছে, তবে মোড়কটা একটু আলাদা। যেন একটা উপহারের বক্স খুলতেই ভেতর থেকে স্প্রিং দেওয়া পুতুল এক ঘুষি বসিয়ে দিল! 'দ্রুত ও রোমাঞ্চকর' খেলার এই বাইরের প্রলেপটি তাই খসে পড়তে পারে আর ব্রডকাস্টাররা আবারও অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন।
নীলনদের আরও উত্তরে, ডেনমার্ক ওপেনে ব্যাডমিন্টনকে আরও বেশি গতিশীল করতে আরেকটি নিয়ম পরিবর্তন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছিল। তা হলো—শাটলটি মেঝেতে স্পর্শ করার সঙ্গে সঙ্গে ২৫ সেকেন্ডের 'শট ক্লক' চলতে শুরু করবে, যা খেলোয়াড়দের পরবর্তী র্যালির জন্য দ্রুত প্রস্তুত হতে বাধ্য করবে। তথ্য-বিশ্লেষকরা বুঝিয়েছিলেন, একজন খেলোয়াড়ের আবার তৈরি হতে গড়ে ২২ সেকেন্ড সময় লাগে। সে হিসেবে ২৫ সেকেন্ড অনেক বেশি।
সুপার ৭৫০ টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে প্রথমে দ্রুত তৈরি হওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয় কিন্তু ২৫ সেকেন্ড অতিক্রম করায় তাদের পেনাল্টি দিয়ে ম্যাচের মনোযোগ নষ্ট করে দেওয়া হয়। এটি অস্কার পুরস্কারের বক্তব্য দেওয়ার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক দিয়ে থামিয়ে দেওয়ার মতো নির্দয় না হলেও, দমবন্ধ ১৫ পয়েন্টের খেলাকে আরও বেশি চাপের করে তুলবে।
শাটলাররা হয়তো অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন—কারণ তাদের উঠতেই হবে। তবে ১৫ পয়েন্ট ও ২৫ সেকেন্ডের শট ক্লক দুটো মিলে যে বড় সমস্যাটি সমাধান করতে পারছে না, তা হলো টুর্নামেন্টের অতিরিক্ত চাপ, যা মূল ট্যুরের আসল সমস্যা। এজন্য আরও বড় পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে স্ট্রেইট সেটে ২১ পয়েন্টের একটি জয় হয়তো এই ধরনের তীব্রতায় টেনেটুনে ৩ সেটে নিয়ে যাওয়া ১৫ পয়েন্টের ম্যাচের চেয়েও দ্রুত শেষ হয়ে যেত।
কারণ ১৫ পয়েন্টের ফরম্যাটে ম্যাচ ৩য় সেটে গড়ানোর সম্ভাবনা বেশি থাকে। যে ফরম্যাটের একটি ম্যাচ ১৪ মিনিট বা ৫৯ মিনিট—যেকোনো সময় শেষ হতে পারে, তাতে এক ধরণের অনিশ্চয়তা থেকেই যায়।



